ময়মনসিংহ, , ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়ক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়ক

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে একদিকে যেমন প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে এ জেলার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামষ্টিক উন্নতির পথ আরো প্রশস্ত হবে। 

এতে রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সঙ্গে শেরপুরের লাখ লাখ মানুষের চলাচল সহজ ও গতিময় হওয়ার পাশাপাশি দূর-দূরান্তের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান গারো পাহাড়ের পাদদেশে পর্যটন সুবিধার আরো বিকাশ ঘটবে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে সবচেয়ে কম ২শ’ কিলোমিটার দূরত্বের ভারতীয় সীমান্তে ইমিগ্রেশনসহ নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনও সুদৃঢ় হবে।

জানা যায়, প্রান্তিক-সীমান্তবর্তী কৃষি ও খাদ্যসমৃদ্ধ জেলা শেরপুরের পাশাপাশি জামালপুরের বকশীগঞ্জ, কামালপুর এবং উত্তরাঞ্চলের রাজীবপুর-রৌমারী-কুড়িগ্রামসহ রংপুর ও গাইবান্ধার কিছু অংশের মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শেরপুর-ময়মনসিংহ ভায়া ফুলপুর সড়ক। কাজেই শেরপুরসহ এসব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের রাজধানী ঢাকা এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম ও পর্যটন এলাকা কক্সবাজারসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও বৃহত্তর জেলাগুলোতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সড়কটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতার পর আশির দশক পর্যন্তও ছিল না শেরপুর-ময়মনসিংহ ভায়া ফুলপুরে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে শেরপুর-ময়মনসিংহ সংযোগস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর চীন-মৈত্রী সেতু নির্মাণের ফলে শেরপুর-ময়মনসিংহ সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হয়। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাতায়াতে সূচিত হয় নতুন দিগন্ত।

কিন্তু তারপর থেকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাতায়াত বাহন গাড়ি বেড়ে গেলেও সরু সড়কের কারণে যানজটসহ নানা সমস্যায় প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতকারী লাখো যাত্রী সাধারণকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন থেকেই শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি ফোর লেনসহ জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার দাবি উঠে আসছিল। ২০১৫ সালে শেরপুরসহ চার জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের লিখিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই দাবিতে যোগ হয় নতুন মাত্রা।

এরই ধারাবাহিকতায় গদ মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের এক সভায় ময়মনসিংহ (রঘুরামপুর)-ফুলপুর-নকলা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৩৭১) নামে বৃহৎ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, এই প্রকল্পের আওতায় শেরপুর-ময়মনসিংহ ভায়া ফুলপুর-নকলা আঞ্চলিক মহাসড়কটি ফোরলেনের কাছাকাছি প্রায় ৩৬ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এর মধ্যে শেরপুর সড়ক বিভাগের আওতায় ৩০.৪০ কি.মি. ও ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের আওতায় ৩৭.৮৬ কি.মি. সড়কসহ মোট ৬৮.২৬ কি.মি. সড়ক রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান বলেন, ‘শেরপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ এবং প্রতীক্ষার অবসান হলো।’

সেই সঙ্গে তিনি দ্রুততম সময়ে মানসম্পন্নভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

শেরপুর নাগরিক সংগঠনের নেতা মনিরুল ইসলাম লিটন ও জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শেরপুরের সঙ্গে রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের যোগাযোগ সহজ করা। এখন দ্রুত শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলে আমাদের দাবিটি পূরণের পাশাপাশি এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে।’

তাদের আশা, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটন এলাকা গারো পাহাড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের যাতায়াত বাড়বে। এরমধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত আরও সমৃদ্ধ হবে।

শেরপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করা বিষয়ে ইতোমধ্যে একনেকের সভায় অনুমোদন হয়েছে। এটিই মূলত প্রধান কাজ ছিল। এখন পদ্ধতিগত ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় নেয়া হবে। আশা করছি পরবর্তী এক’দুই মাসের মধ্যে ফান্ড বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সড়কের দু’পাশের গাছপালা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পাশাপাশি দরপত্র আহ্বান করা হবে। দ্রুততম সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে সমান্তরালেও কাজ চলতে পারে।’

তিনি জানান, শেরপুর অংশে এখন সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত। নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ না করেও আঞ্চলিক মহাসড়কের আওতায় তা ৩৬ ফুটের স্থলে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া শহরের থানামোড় থেকে খোয়ারপাড় মোড় পর্যন্ত জায়গা কম থাকায় এই অংশের প্রশস্ততা আরও একটু কম হতে পারে।

  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল