ময়মনসিংহ, , ২৫ চৈত্র ১৪২৬ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি চালক জাহিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি চালক জাহিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি চালক জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি চালানোর কারণে দম্ভোক্তি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি অবজ্ঞা করে চলেন। সিটি কর্পোরেশনের অনেকেই তাকে বেয়াদব জাহিদ হিসেবেই চিনেন। তার বিরুদ্ধে ৩ জনকে মাস্টার রুলে গাড়ি চালক হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করে দিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্যদের কথা বলে চালকদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয় বলে একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে গাড়ি চালক জাহিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মতো ঘটনায় জড়ান তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। কেউ ছাড় পাবেন না। এ বিষয়ে মেয়র মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

জানা যায়, জাহিদ হাসান ২০১২ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ পৌরসভায় গাড়ি চালক হিসেবে যোগদান করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনি চাকরি নেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদপত্র এবং টেকনিক্যাল কমিটিতে কোনো প্রকার টেস্ট না দিয়েই তিনি চাকরি পান। প্রতিটি বিষয়েই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জাহিদ ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে গাড়ি চালক হিসেবে চাকরি করছেন। কাগজপত্র যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়বে। সূত্র মতে, জাহিদ ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতি করে অবৈধভাবে অন্তত: ৪০ লাখ টাকা আয় করেছেন। এ টাকায় তিনি ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া মোড়লপাড়ায় সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ও ২টি ম্যাক্সি (পালকী) ক্রয় এবং নামে-বেনামে বহু সম্পদ গড়েছেন।


সূত্র জানায়, জাহিদ হাসান বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেনের গাড়ি চালান। এর আগে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়ি চালাতেন। ১ বছর আগে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি চালানো শুরুর পর থেকেই জাহিদের উত্থান শুরু। অফিসের অন্যান্যদের সাথে খারাপ আচরণ করার বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাঝে মধ্যে ঠিকাদারদের ফাইল নিয়েও বাড়াবাড়ি করেন। টাকার বিনিময়ে ফাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার বিষয়েও বেশ পারদর্শী এই জাহিদ। সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন নানা তদবির নিয়ে। এভাবেই দিনের পর দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন গাড়ি চালক জাহিদ। গাড়ির লগ বই মেনটেইন করার ক্ষেত্রেও জাহিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তেল ও মবিল বিক্রি এবং যন্ত্রাংশ কেনার নামেও টাকা হাতিয়ে নেন এই জাহিদ। পরিচিতদের নিয়ে ঘোরাফেরা এবং নিজের কাজেও তিনি সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করেন। গাড়ির লগ বই এবং মাইলেজ চেক করলেই অনেক কিছুর প্রমাণ পাওয়া যাবে।

জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি চালক জাহিদ হাসান গত ৬ মাসে মাস্টার রুলে ৩ জন গাড়ি চালককে নিয়োগের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সূত্র মতে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্যদের কথা বলে টাকা নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সাকিব, জাহিদ ও রাকিবকে গাড়ি চালকের চাকরি দিয়েছেন। বয়স না হওয়ার পরও জাল সনদপত্র বানিয়ে ভাগ্নে মাসুমকে মাস্টার রুলে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়ে অতিমাত্রায় বিতর্কিত হয়েছেন জাহিদ। জাহিদ তার পরিচয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়েও ফেসবুকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। স্কুলের পরিচয় দিয়েছেন বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। আর কলেজ উল্লেখ করেছেন আনন্দমোহন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। অথচ তিনি চাকরি নিয়েছেন দশম শ্রেণী পাসের জাল সনদপত্র দিয়ে। অন্যান্য বিষয়েও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন জাহিদ হাসান।

সূত্র জানায়, আবেদনের প্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশনের টাউন হল প্রাঙ্গণে নির্দিষ্ট আয়তনের জমিতে ঘর তুলে অস্থায়ী ভিত্তিতে থাকতে দেওয়া হয় গাড়ি চালক জাহিদকে। অনুমোদন এবং চতুরতার আশ্রয় নিয়ে বেশী আয়তনের জমিতে ঘর তুলেছেন বিতর্কিত জাহিদ। দেখে বুঝার উপায় নেই তিনি সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি চালক। তার বিরুদ্ধে সংগঠনের নাম ভাঙ্গানোর অভিযোগ রয়েছে। চলাফেরা থেকে শুরু করে সব কিছুতেই দম্ভোক্তি। আড্ডা দেন বিতর্কিত লোকদের সাথে। অফিসের বিভিন্ন তথ্য পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিষয়ে বাইরের লোকদের কাছে বিভিন্ন মন্তব্য করেন গাড়ি চালক জাহিদ। দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘আমি সংগঠন করি। কেউ আমার কিছু করতে পারবে না। চাইলে আমিই সব কিছু ফাঁস করে দিতে পারি। আমি অনেকের অনেক কিছু জানি।

  • সর্বশেষ - মহানগর