ময়মনসিংহ, , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

সিরিজে সফলতার গল্প শোনালেন লিটন

  অনলাইন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

সিরিজে সফলতার গল্প শোনালেন লিটন
সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস। ছবি: সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম অব গ্রাউন্ডে স্বপ্নের মতো এক সিরিজ খেললেন লিটন কুমার দাস। যার পরতে পরতে ছিল আত্মবিশ্বাস, সামর্থ্যে আস্থা, এবং চার ও ছক্কার ফুলঝুরি। শুধু দ্বিতীয় ওয়ানডে ছাড়া সবকটি ম্যাচেই কেটেছে স্বপ্নের মতো। ছয় ইনিংসে রান করেছেন পাঁচশর কাছাকাছি। সেঞ্চুরি দুটি এবং ফিফটি তিনটি।

এবারই প্রথম টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটের সিরিজেই প্রতিপক্ষকে ধবল ধোলাইয়ের রেকর্ড করলো বাংলাদেশ। এমন সিরিজে যাকে নিয়ে গল্প করাই যায় সেই লিটন দাস ছিলেন অনবদ্য। প্রতি ম্যাচে তাকে দেখে মনে হয়েছে যেন আস্থার প্রতিমূর্তি। নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাসটা যেন অনেক বেশি ছিল। আর বড় ও লম্বা ইনিংস খেলায় মনোযোগ ছিল প্রচুর। কিছু করার দৃঢ় সংকল্পটা ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সাফল্যও ধরা দিয়েছে।

ক্যারিয়ারের এমন সিরিজ আর আসেনি লিটন দাসের। তিনি নিজেও আশা করেননি এতোটা ভালো করবেন। তবে ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন নিজের সফলতার কথা। ছোট্ট এক পরিসংখ্যানই বলে দেবে লিটন কত ভালো পারফর্ম করেছেন। সিরিজের একমাত্র টেস্ট ৫৩, ওয়ানডেতে ১২৬, ৯, ও ১৭৬ আর টি-টোয়েন্টিতে ৫৯ ও ৬০*। সব মিলিয়ে ছয় ইনিংসে লিটন দাস করেছেন ৪৮৩ রান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সফল সিরিজের পর আজ (বুধবার) রাতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে এসে সে সাফল্যর পেছনের কাহিনী শোনালেন লিটন দাস। প্রশ্ন উঠল- টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলে ৫০০ রান করলেন প্রায়। এমন প্রত্যাশা কি ছিল?

লিটন দাসের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘না ভাই। সত্যি বলতে কি প্রত্যাশা কখনই এমন ছিল না।’ তবে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, টি-টোয়েন্টিতে ফিফটির আশা করাই যায়। তার ভাষায়, ‘আজকের ম্যাচ যদি চিন্তা করা যায়, অনেক ইজি ছিল। ব্যাটিং করা ইজি ছিল না। প্রতিটি বলই চ্যালেঞ্জিং। তবে কোনো প্রেশার ছিল না। তাড়াহুড়ো ছিল না। আমার জন্য ইজি ছিল। ওভার-অল ভালো গেছে।’

সাম্প্রতিক সময় মিডিয়ার সাথে আলাপে বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট খেলাটা হতাশার।’ এখন এত ভালো খেলার পরও কি তা মনে হচ্ছে? লিটনের জবাব, ‘একটি সিরিজ ভালো কেটেছে , তাই কি আর কথা পাল্টে ফেলা যায়। আবার খারাপ সময় আসলে? তখন কি বলব? আসলে ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউন থাকবেই।’

হ্যাঁ জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ে খুব অ্যাটাকিং বোলার নেই। বোলিং লেভেল একটু কম। তবে সাফল্যর জন্য আসলে দরকার নিজে ফোকাস থাকা। প্রতিপক্ষ বোলিং যেমনই হোক না কেন? প্রতিদ্বন্দ্বী বোলার এমপফু না, মিচেল স্টার্ক যেই থাকুন না কেন? ফোকাসটা একই থাকা একান্তই দরকারি।

তবে এ সিরিজে ভালো খেলার পেছনের গল্পটা ঠিক শুনিয়েছেন লিটন। তার ধারণা, এ সিরিজে তার ভালো খেলার ইচ্ছে, দৃঢ় সংকল্পটা অনেক বেশি ছিল। তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ছিলেন।

‘এর আগেও আমি পারফরমেন্স করেছি। রান করেছি। তবে এক ম্যাচের পর একটু বেশি রিলাক্স হয়ে যেতাম। কিছুটা হলেও হয়তো ফোকাস কমে যেত। মনোযোগ একটু হলেও কমে যেত। মনে হতো এক ম্যাচে রান করেছি। রান হয়ে যাবে। কিন্তু এবার পুরো সিরিজে আমি চিন্তা করেছি প্রতিটি ম্যাচই নতুন। আমি ফুল ফোকাস ছিলাম। প্রতি বলে অনেক ফোকাস ছিলাম। শট সিলেকশনেও ছিলাম খুব চ্যুজি। বলের মেধা ও গুণ বিচার করে খেলার চেষ্টা করেছি। ওপর দিয়ে খেলার চেষ্টাও ছিল কম।’

তবে এটাই শেষ নয়। তার শেষ কথা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, আগামীতে পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা