, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

শরীর কেটে বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রী-আ.লীগের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

শরীর কেটে বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রী-আ.লীগের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ

জামালপুরের ইসলামপুরে নিজের শরীর কেটে স্লোগানসহ বিভিন্ন কথা লিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন এক দিনমজুর যুবক। গোপনে এসব কথা লিখলেও একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। দলীয় কোনো কর্মসূচিতে সক্রিয় না হয়েও বা দলীয় কোনো পদে না থেকেও নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করে এমন বিরল ভালোবাসা প্রকাশ করায় বিস্মিত স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারি ইউনিয়নের বেনুয়ারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মমিনের ছেলে দিনমজুর ময়েছেন আলী (২৯)। দলীয় পদ বা দলীয় কোনো সভা-সমাবেশে সক্রিয় না থাকলেও বাপ-দাদার আওয়ামী লীগের প্রতি ভক্তি দেখে তিনিও আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন অন্তর থেকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন নিজের শরীরে। পরিবারের সদস্যদের আড়ালে নিজের শরীর কেটে লেখেন, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান’, ‘যারা মুজিবের ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা আলবদর রাজাকার’, ‘শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার’, ‘যত দিন রবে দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’, ‘ফরিদুল হক খান দুলাল এমপিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করায় শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ’।

এই কথা ও স্লোগান ময়েছেন আলী লিখেছেন একেবারে নিরেট ভালোবাসা থেকে। নিজের শরীর কেটে তাতে এসিড ঢেলে ক্ষত করে তা শুকিয়ে নিজের গায়ে লিখে রেখেছেন এসব কথা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ভালোবাসা থেকেই পদ্মা সেতুর ৩৭তম স্প্যান বসানোর স্মৃতি ধরে রাখতে ময়েছেন আলী প্রথম বাম হাতে লেখেন, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান’, ‘শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার’, ‘যতদিন রবে দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’। এরপর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে বুকে ও পেটে লেখেন, ‘যারা মুজিবের ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা আলবদর রাজাকার’।

পরে ইসলামপুর থেকে নির্বাচিত তিনবারের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলালকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ফরিদুল হক খান দুলাল এমপিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করায় শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ’।

ময়েজেন আলী জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। তবে এই কাজটি তিনি কাউকে দেখানোর জন্য বা কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার জন্য করেননি; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির অনুসারী হিসেবে করেছেন।

যেভাবে শরীরে লিখেছেন এসব কথা-স্লোগান

স্টিলের প্লেইনশিট দিয়ে প্রথমে শরীরে ক্ষত করেন ময়েজেন আলী। তারপর ক্ষতটি দীর্ঘস্থায়ী করতে তাতে ঢালেন এসিড। পুরো কাজটি ময়েছেন করেন সবার অগোচরে, এমনকি তার পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পায়নি। একদিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত দেখতে পান তার স্ত্রী রিনা বেগম।

ময়েছেনের স্ত্রী এক সন্তানের জননী রিনা বেগম জানান, তার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক সপ্তাহ ধরে তিনি অসুস্থ থাকেন। শরীরে এসব কখন লিখেছেন তা তিনি জানেন না। লেখাগুলো দেখে বকাঝকা করলেও পরে বুঝতে পারেন শেখ হাসিনাকে ভালোবেসেই এমনটি করেছেন তার স্বামী।

চরপুটিমারি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ময়েছেনের বাপ-দাদা আওয়ামী লীগের অনুসারী ছিলেন। ময়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ এক দিনমজুর। সে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা না, কোন সভা-সমাবেশে যায় না। তবে তার শরীরে বঙ্গবন্ধু, সেই তো প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তার কাছ থেকে বর্তমানের রাজনীতিবিদদের অনেক কিছু শেখার আছে।’

চরপুটিমারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুজ্জামান সুরুজ মাস্টার জানান, দরিদ্র ময়েছেন বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল ও বাংলাদেশকে ভালোবেসে নিজের শরীর কেটে কথাগুলো লিখেছেন। তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।

ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম জামাল আব্দুন নাছের বলেন, ‘ব্যক্তিগত ভালোবাসা থেকেই ময়েছেন আলী নিজের শরীর কেটে স্লোগান লিখেছেন। এমন মানুষ আছে বলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এদের জন্যই বাংলাদেশ একদিন জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে।’

  • সর্বশেষ - মহানগর