, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

নারীদের ফেসবুক হ্যাক করে অর্থ আদায় মামুনের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

নারীদের ফেসবুক হ্যাক করে অর্থ আদায় মামুনের

ফিশিং লিংক ব্যবহার করে বিশেষ করে নারীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামুন মিয়া নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের-ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১টি মোবাইল উদ্ধার করেছে। সোশ্যাল ও মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম ২১ জুন সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রবাসী নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছিলেন মামুন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী নারীদের সঙ্গে ফেসবুকেই পরিচিত হতো সে। এরপর ফেসবুকের মতো দেখতে হুবহু নকল আরেকটি ওয়েবসাইট তৈরি করে লিংক ইনবক্সে শেয়ার দিয়ে বলত, সে আমেরিকায় একটি ফটো কনটেস্টে অংশগ্রহণ করেছে। তার একটি ভোট প্রয়োজন। তাকে ভোট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত লিংকে ক্লিক করতে বলা হতো।

ফেসবুক আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সেখানে ক্লিক করার পরই তার ফেসবুক পাসওয়ার্ডটি প্রতারক নিয়ে নিত। এভাবে অসংখ্য নারীর পাসওয়ার্ড নিয়ে ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ বছরের ওই তরুণ। পরে হ্যাক করা আইডি ব্যবহার করে শুরু করতেন নানা প্রতারণা। পরে ওই আইডি ব্যবহার করে বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে নানা উপায়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন। এভাবে বহু নারী মামুনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মামুন মিয়া এসএসসি পাস। তিনি নিজেকে অপ্রতিরোধ্য ঘোষণা করে ফেসবুক ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। একটি ট্রেনিং সেন্টারের আইটির ওপর কোর্স করে প্রতারণা রপ্ত করে ফেলেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারীরা বলছেন, প্রতারণার কৌশল নিয়ে তিনি গর্ব করতেন, চ্যালেঞ্জ দিয়ে মামুন বলতেন কেউ তার এ প্রতারণ প্রমাণ করতে পারবে না। ধরতে পারবে না। ধরতে পারলে হাজার ডলার পুরস্কারেরও ঘোষণা দেন। এর আগেও ফেসবুক হ্যাকের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল মামুনের বিরুদ্ধে। এবার প্রবাসী নারীদের ফেসবুক আইডি হ্যাকের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতারণার মাধ্যমে আয় করা টাকা দিয়ে মামুন বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন জানিয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, মামুনের বয়স কম হলেও সে প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত। এরই মধ্যে সে বহু নারীর আইডি হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করলেও মামুন ব্যবহার করতেন দামি মোটরসাইকেল এবং আইফোন ম্যাক্স মডেলের মোবাইল ফোন। মামুনকে গ্রেফতারের সময়ে এগুলো জব্দ করা হয়েছে। আইডি হ্যাক করার পরে মানুষ ভুক্তভোগী নারীদের ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করতেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সে এখন দুদিনের রিমান্ডে আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর আমরা তার মোবাইলটি ফরেনসিক টেস্ট করতে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট এলে বিস্তারিত বলা যাবে।

  • সর্বশেষ - মিডিয়া