, ১০ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

গান পাগল মেধাবী দুই বোন

  বিনোদন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

গান পাগল মেধাবী দুই বোন

অনেকেই চ্যানেল আইয়ের গানের প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে উঠে এসে সাফল্য পেয়েছেন। তাদেরই একজন ফাইরুজ মালিহা। ২০১৩ সালে চ্যানেল আইয়ের ক্ষুদে গানরাজে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পথচলা শুরু করেন।

এরপর পড়াশোনায় ঝোঁকেন তিনি। ধীরেধীরে সংগীত থেকে অনিয়মিত হয়ে যান।

এদিকে ২০১৯ সালে চ্যানেল আইয়ের দর্শকপ্রিয় গানের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘গানের রাজা’র চ্যাম্পিয়ন হয়ে সংগীতাঙ্গনে পা রাখেন মালিহার ছোটবোন ফাইরুজ লাবিবা।

ছোট বোনের সাফল যেন বড় বোনকে উৎসাহে ভাসালো। আবারও মালিহা গানে মন দিলেন। ইউটিউব চ্যানেলে মালিহার গান প্রকাশের পর শ্রোতা মহলে বেশ সারা পড়ে। দুই বোন মিলে এখন নিয়মিতই গান করে যাচ্ছেন।

আলাপচারিতায় ফাইরুজ মালিহা বলেন, ‘আমি যখন ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ি তখন ক্ষুদে গানরাজে অংশগ্রহণ করি। সেসময়ের স্মৃতিগুলোও আমার কাছে ঝাপসা লাগে। ক্ষুদে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে যাই। লাবিবা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবার নতুন করে গান করা শুরু করেছি।’

সর্বশেষ প্রত্যয় খানের সাথে প্রকাশ পেয়েছে মালিহার মৌলিক গান ‘তোমাতে ভাসি’।

তিনি জানান, গানকে আকঁড়ে ধরেই ডাক্তার হওয়া স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা।

আলাপচারিতায় ‘গানের রাজা’ এর চ্যাম্পিয়ন ফাইরুজ লাবিবা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে বদলে যায় আমার স্বাভাবিক জীবন। করোনার লকডাউনের মধ্যে যখন বাসায় বসে অবসরে কঠিন পরিস্থিতি পার করছিলাম তখন ইউটিউব চ্যানেল খুলি। ইউটিউবে অল্প সময়ের মধ্যে ভালো শ্রোতাপ্রিয়তা পাই। আমার গানের চেয়ে আপুর গান আরও বেশি শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।’

শ্রোতাদের ভালো কিছু উপহার দিতে শিগগিরই দুই বোনের নতুন গান ইউটিউবে প্রকাশ হবে বলে জানান লাবিবা।

‘গানের রাজা’য় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আলোচনায় আসেন লাবিবা। অনেক প্রতিভায় সমৃদ্ধ লাবিবা বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা দুইবার জাতীয় শিশু পুরস্কার পান। ‘গানের রাজা’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কারণে ২০১৯ হাত ছাড়া হয়ে যায় জাতীয় শিশু পুরস্কারের হ্যাট্রিক। নৃত্য ও চিত্রাঙ্কনে অসংখ্য অর্জন রয়েছে তার।

২০১৭ সালে জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতায় সারাদেশে ১ম হয়ে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছেন এই ক্ষুদে সংগীত শিল্পী। লাবিবা বলেন, ‘পারিবারিকভাবে গানকে পেয়েছি আমার বয়স যখন দুই থেকে আড়াই বছর সেই তখন থেকেই। ছোট বেলা থেকেই আমি আপুর গানের ভক্ত ছিলাম। সবসময় আপুর গান শুনতাম। ‘গানের রাজা’ প্রতিযোগিতায় আপু আমাকে সবসময় দিকনির্দেশনা দিতো।

আপুর অনুপ্রেরণা পাওয়ার কারণেই আমি চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। গানকে ভালোবেসে জীবন কাটাতে চাই। তবে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছে নেই। ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিবা আরও বলেন, ‘আমার খুব করে ইচ্ছে আমি নাসায় যাবো, নাসায় কাজ করবো। বিজ্ঞানের প্রতি আমার খুব ঝোঁক। গান গাইতে আমার যেমন ভালোলাগে, পড়াশোনা আর গবেষণা করতে আমার তেমনি ভালোলাগে।’
  • সর্বশেষ - বিনোদন