, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

জোবায়ের মিলনের তিনটি কবিতা

  সাহিত্য ডেস্ক

  প্রকাশ : 

জোবায়ের মিলনের তিনটি কবিতা

বিষণ্ন বিলাপ

বাবা থাকলে অনেক কথা বলতেন
এখন নৈঃশব্দ্যে ভরা ঘর—কবরের মতো;
আমি কবরে নেমে থাকি সারা দিন—

প্রিয়তমা ঘুম ভাঙিয়ে দিলে
মনে পড়ে লেবুঞ্চুস, চিনির ঘোরা, তক্তা বিস্কুট,
নতুন জামা, সাদা জুতা, মুঠো ভরা কয়েন—
তখন পাঁজর তলে বোগলায়—মিহিন হাহাকার।
আর ইমামের পাঠ করা তাকবীর
নিয়ে যায় আঙুল ধরা সকালে... আমি
সেই সকালটা আর ফিরে পাই না, ইহজাগতিক
কোনো বারান্দায়।

****

অতীত খসড়া

তোমাকে তারা পায়
যারা প্রত্যাশা করেনি দুঃস্বপ্নেও...

স্বপ্নের ভিতরে ছিলে বিশ্ব ভ্রমণের আনন্দ
অজেয়কে জয়ের হিম্মত
অনলে ঝাঁপ দেওয়ার দুর্দান্ত অভয়,
আকাঙ্ক্ষার মন্দির ছিলে শয্যা সান্নিধ্যে;
নীড় পাতনি অহংকারে।
অমূল্যে নয়, মূল্য দিয়ে কিনে নেয় যখন যে-কেউ,
বিলাপে ভেসে যায়—অবল নেত্র;
শোক হয় মৃতপ্রায় পালকের জন্য।

তাই তারাই পাক, যারা পায় না সহজে
সহজেই লাল হয়ে ওঠো তুমি—ডুমুরের ফল!

****

সোনার বিস্কুট

কাঁচুলির নিচে লুকিয়ে রাখো সোনার বিস্কুট
অথচ আমি অর্থকষ্টে ভুগী সারা বছর
কী নির্দয় তুমি! কী পাষণ্ড তুমি!
পুঁজিবাদ আগলে রাখো উরুর ভাঁজে
নিতম্বে প্রকাশ করো ট্রাম্পিয়ান মতবাদ
নেতানিয়াহুর কৌশলে দখল করো অসহায়, দরিদ্র আমায়;
অথচ আশ্রয়হীন উদ্বাস্তু আমি।
তাকাও—
নিম্নবিত্ত এ আমার দিকে
হিমকাতর তহবিলে দান করো নাভির উষ্ণতা;
বেঁচে থাকি—তোমার
উষ্ণতা আশ্রয় করে।

কার্পণ্য করে যদি না-ই দাও কিছু
ত্রিনদে যদি না-ই ভাসাও নাও
দৌলতে ভরা সিন্ধুক দিয়ে কী করবে শুনি?
দুর্ভিক্ষ, খরায় হা হয়ে আছি
হাতের মুঠোয় তুলে দাও না তোমার রঙিন কৌমার্য?
চাতক পাখি আমি, চেয়ে আছি তৃষ্ণার্ত নেত্রে।

  • সর্বশেষ - সাহিত্য