, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

ভোলায় ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ভোলায় ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের

টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে নদীতে জাল ফেলেছিলেন ভোলার জেলেরা। কিন্তু ভরা মৌসুমেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ফলে হাসি নেই জেলেদের মুখে। হতাশার মধ্য দিয়েই দিন কাটছে তাদের।

একদিকে নদীতে মিলছে না ইলিশ, অন্যদিকে করোনার কারণে ডাঙায় কাজও নেই। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছেন তারা।

মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, দ্বীপ জেলা ভোলায় ২ লক্ষাধিক জেলে নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশে ইলিশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ ভাগ ভোলা থেকেই মেটানো হয়। বছরজুড়ে ইলিশ আহরণের অপেক্ষায় দিন পার করেন জেলেরা। আশায় থাকেন ইলিশ মৌসুমের। জেলেদের হিসেবে, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু। আর শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মৌসুম শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শ্রাবণ প্রায় শেষ হতে চললেও নদীতে এখনও মিলছে না ইলিশ।

dhakapost

ভোলার মেঘনা পাড়ের ইলিশা, তুলাতুলি, নাছির মাঝি,ভোলার খালসহ বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক কম ইলিশ ধরা পড়ছে। তাই ব্যস্ততা নেই জেলে ও আড়ৎদারদের মধ্যে। দুই এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে আনা হলেও আগের মতো নেই হাঁকডাক। কারণ এ সময়ে যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার কথা তার তিন ভাগের এক ভাগও পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে ২-৪ জন জেলে নদীতে ৪-৫ দিন জাল ফেলে অল্প সংখ্যক মাছ পেলেও তাদের খরচের টাকা উঠছে না।

এ বিষয়ে ভোলার ধনিয়া তুলাতুলি এলাকার বশির মাঝি বলেন, আমারা ৬ জন মাঝি মিলে গতকাল সন্ধ্যায় নদীতে গিয়েছিলাম। ভোরে তীরে আসি। দীর্ঘক্ষণ নদীতে থেকে ৭০০-৮০০ গ্রামের ৩টা ও ছোট আকারের ১৩টা ইলিশ পেয়েছি। ঘাটে বড় আকারের ইলিশগুলো ২ হাজার টাকা ও ছোটগুলো ১৮০ টাকায় (হালি) বিক্রি করি। যে টাকা পেয়েছি তা দিয়ে জ্বালানি খরচও উঠে না।

এদিকে নদীতে মাছ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আড়ৎদাররাও। তারা বলছেন, বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে জেলেদের সাগরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় মাছ ধরা পড়ছে না।

তুলাতুলি ঘাটের আড়ৎদার নোয়াব মিয়া বলেন, প্রত্যেক বছর এ সময় ঘাট থাকে জমজমাট। আমরা ঢাকা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ইলিশ পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করি। কিন্তু এ বছর তা হচ্ছে না। বিগত সময় জেলেদের যা দাদনের টাকা দিয়েছি তাই তুলতে পারছি না। এখন আবার তাদের ঋণ দেওয়া লাগছে।

dhakapost

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, সরকারি হিসাবে ভোলা জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ২৬০ জন। তবে নিবন্ধনের বাইরে আরও দুই লাখের অধিক জেলে রয়েছেন। গত ৫ বছর দেখা গেছে, জুন জুলাই মাসে ইলিশের পরিমাণ কম থাকে। ইলিশের মাইগ্রেশন, বৃষ্টি কম হওয়াসহ নানা কারণে এবার ইলিশ কম ধরা পড়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি কম বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে নোনা পানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই ইলিশের সংখ্যা কমছে। তাছাড়া নদীতে এখন জেলে ও জালের সংখ্যাও অনেক বেশি। প্রত্যেকে একটি বা দুইটি করে পেলেও মাছের সংখ্যাটা কম নয়। তবে সব সময়ই জুন-জুলাইয়ে মাছ কম থাকে। আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসে জেলেরা নদীতে আশানুরূপ মাছ পাবেন।

  • সর্বশেষ - মিডিয়া