, ২ কার্তিক ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

নারীদের তৈরি আমসত্ব জনপ্রিয় সারাদেশে

  ফিচার ডেস্ক

  প্রকাশ : 

নারীদের তৈরি আমসত্ব জনপ্রিয় সারাদেশে

যুগ যুগ ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের সুখ্যাতি আছে সারাদেশে। শুধু আম নয়, সেখানকার আমসত্বও বর্তমানে জনপ্রিয়তা কুড়াচ্ছে দেশজুড়ে। তাই আমের স্বাদ সারা বছর পেতে ব্যস্ত সময় পার করছে আমসত্বর কারিগররা। আমের মৌসুমে পাঁকা আমের রসালো অংশ থেকে তৈরি করা হয় আমসত্ব।

এ সময় ফজলি আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের আম দিয়ে প্রস্তুত হয় এ আমসত্ব। বেশি পাকা অবস্থায় আম খাওয়া যায় না। তাই বেশি পাকা আম চিপে এর রস সংগ্রহ করা যায়। শতকরা ৬০ ভাগ পাকা আমের সংগ্রহ রস থেকে সাধারণত আমসত্ব তৈরি করা হয়।

jagonews24

আমসত্ব দেখতে অনেকটা চামড়ার মতো। টক মিষ্টি স্বাদের আমসত্ব ছোট-বড় সবার কাছেই পছন্দের। আমসত্বের টুকরো আবার টেনে ছিঁড়ে মুখে পুরে কিছু সময় ধরে চুষলে তার অস্তিত্ব আর মুখে থাকে না।

এ বছর আমের দাম কম থাকায় অনেকে আমসত্ব তৈরিতে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। কৃষকরা বলছেন, অনেক নারীদের নিজ বাগান না থাকলেও আম কুড়িয়ে আমসত্ব তৈরি করছেন। খুবই সাদামাটাভাবে সংরক্ষণ করলেও মাস তিনেক বা অনেক ক্ষেত্রে তারও বেশি সংরক্ষণ করে খাওয়া যায়।

jagonews24

চাঁপাইয়ের নারীদের হাতে তৈরি আমসত্ব পৌঁছে যাচ্ছে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষ আমসত্বকে আমতা নামেই চেনেন। আর এ আমসত্ব জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবারহ হচ্ছে সারাদেশে। বৃহস্পতিবার(২৯ জুলাই) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর, নাচোল, কানসাট, ভোলাহাট, এলাকায় ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় আম কুড়াচ্ছিলেন নুরবানু বেগম। এসব আম কুড়িয়ে কি করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কি করব বাপু, আমের দাম নাই। তাই পাঁকা আম গাছ থেকে পাড়ে না বাগান মালিকরা।’

jagonews24

‘এজন্য প্রতিদিন সকালে আম কুড়াতে আসি। কিছু আম গ্রামে বিক্রি করি আর কিছু আমতা (আমসত্ব) করি। তিনি ৩ মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকার আমতা বিক্রির কথা জানান।

শিবগঞ্জ উপজেলার চামাভান্ডার গ্রামের রুলি বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছাদে রোদে শুকাতে দিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের আমসত্ব। তিনি জানান, ‘আমি প্রায় ৯ বছর হতে আমসত্ব তৈরি করে বিক্রি করি।’

‘১ কেজি আমসত্ব বানাতে প্রায় ৬-৭ কেজি আম প্রয়োজন হয়। যদি প্রতিদিন রোদ হয় তবে-দিনে দুই তিন কেজি আম আমসত্ব তৈরি করা যায়। এই আমসত্ব সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই কিনে নিয়ে যায় ক্রেতারা।’

jagonews24

তিনি আরও জানান, ‘প্রতি কেজি আমসত্ব ৩৫-৬০ টাকা কেজি দ্বরে বিক্রি করা হয়। আর আমসত্ব যদি যত্ন করে সংরক্ষণ করা হয়; তবে আমের মৌসুম শেষে প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা কেজি দ্বরে বিক্রি করা যায়।

চৌডালা এলাকার আতাউর রহমানের স্ত্রী সেফালী খাতুন জানান, ‘আমসত্ব বিক্রির টাকায় তার দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগান। এ ছাড়াও বাড়তি টাকা থাকলে সংসারেও খরচ করে থাকেন।’

সেফালী খাতুনের স্বামী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমের মৌসুম আসলে বাচ্চাদের পড়ালেখার খরচের চিন্তা তাকে করতে হয় না। স্ত্রীর আমসত্ব বিক্রির টাকায় ছোট ছোট সংসারের খরচগুলো মিটে যায়।’

খুচরা আমসত্ব ক্রেতা আনারুল ইসলাম জানান, ‘প্রায় ১১ বছর ধরে আমসত্বর ব্যবসা করছেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন বাড়ি থেকে আমসত্ব ক্রয় করে তিনি কানসাট বাজারে বিক্রি করেন। দিনে প্রায় ৫-৬ মণ আমসত্ব ক্রয়-বিক্রয় করে আয় হয় ৮০০-৯০০ টাকা। এতেই চলে তার সংসার।’

jagonews24

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কানসাট আমসত্ব আড়তদার আমির হোসেন জানান, ‘যতদিন আম থাকে; ততদিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে আমসত্ব কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশি দামে সরবারহ করে থাকি। আড়তে প্রতিদিন প্রায় ১০০-১৫০ মণ আমসত্ব ক্রয় করা হয়।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মার্কেটিং অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমসত্ব সারাদেশে জনপ্রিয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে আচারের সঙ্গে ব্যাপক চলে আমসত্ব।’

‘দেশে যদিও আলাদাভাবে কোনো আমসত্বর বাজার নাই। তবে আগামীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমসত্ব আরও যেন জনপ্রিয় হয় তার উদ্যোগ নেওয়া হবে,’ বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ - ফিচার