, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

তেল ট্যাঙ্কারে হামলা, ইরানকে দুষছে ইসরায়েল

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  প্রকাশ : 

তেল ট্যাঙ্কারে হামলা, ইরানকে দুষছে ইসরায়েল

আরব সাগরে একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল। ওই হামলায় তেল ট্যাঙ্কারের দুই ক্রু নিহত হন। এদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং অন্যজন রোমানিয়ার নাগরিক। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জোডিয়াক ম্যারিটাইমের অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল এমভি মার্সার স্ট্রিট নামের ওই জাহাজটি। বৃহস্পতিবার ওই জাহাজে হামলার সময় এটি আরব সাগরের ওমান উপকূলে ছিল।

ওই কোম্পানির মালিক ইসরায়েলি ধনকুবের ইয়াল ওফের। তিনি বলেছেন, আসলে কি ঘটেছে তা জানতে কাজ চলছে। তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ শুক্রবার অভিযোগ করেছেন, এটি ছিল ‌ইরানের ‌‌‌‌‌‘সন্ত্রাসী হামলা‌‌‌’।

তিনি বলেন, ইরান শুধু ইসরায়েলের সমস্যা নয়। বিশ্ব অবশ্যই নীরব থাকতে পারে না। তবে লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী এবং জাপানি মালিকানাধীন এই তেলবাহী জাহাজে আসলে কি ঘটেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

অপরদিকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে এখনো কোনও মন্তব্য করেনি ইরান। এই ঘটনা ওই এলাকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশ প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই ঘটনায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

jagonews24

যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আসলে কি ঘটেছে, সেটি তারাও জানার চেষ্টা করছেন। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ট্যাঙ্কারে যে ব্রিটিশ নাগরিক মারা গেছেন, তাদের প্রিয়জনের পাশে রয়েছে ব্রিটেন।

সেখানে আরও বলা হয়েছে, নৌযানগুলোকে ‌‌অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে দিতে হবে।
শুক্রবার একটি বিবৃতিতে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জোডিয়াক ম্যারিটাইম জানিয়েছে, দুই কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে আর কেউ আহত হয়নি বলেও তারা জানানো হয়েছে।

ওই কোম্পানি জানিয়েছে, জাহাজটিকে এখন এর কর্মীরা পরিচালনা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সহায়তায় সেটি নিরাপদ স্থানের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ম্যারিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওই ঘটনার ব্যাপারে তারা তদন্ত করতে শুরু করেছে। যৌথবাহিনী জাহাজটিকে সহায়তা করছে বলেও তারা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সেখানকার পরিস্থিতি কঠোরভাবে নজরে রেখেছে। তানজানিয়ার দার এস সালাম থেকে রওনা হয়ে ভারত মহাসাগরের উত্তরভাগ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল জাহাজটি।

জোডিয়াকের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় জাহাজটিতে কোন পণ্য ছিল না। এর আগেও ওই এলাকায় ইরান ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজে বেশ কয়েকটি হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে হতাহতের ঘটনা বিরল।

এই ঘটনার কারণে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে অঘোষিত ছায়া যুদ্ধ চলছে, সেটি আরও বেড়ে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে ইরান ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এবং উভয়েই তা নাকচও করেছে।

কিন্তু এই হামলায় উত্তেজনা বিশেষভাবে বাড়বে কারণ এতে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনার শক্ত জবাব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি নিয়ে তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবের সঙ্গে কথা বলছেন এবং জাতিসংঘেও বিষয়টি নিয়ে যেতে চান।

ইরানের একটি আরবি ভাষার টেলিভিশনের খবরে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, সিরিয়ার একটি বিমানবন্দরে যে ইসরায়েলি হামলা হয়েছে, তার পাল্টা জবাব হিসাবে এই হামলা করা হয়েছে। অপরদিকে নাম প্রকাশ না করা এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলের পক্ষে এই হামলার ঘটনা উপেক্ষা করে যাওয়া কঠিন হবে।

  • সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক