, ২ কার্তিক ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

ইসলামে যৌবনের গুরুত্ব

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ইসলামে যৌবনের গুরুত্ব

দুনিয়ার জীবনে সবকাজের ক্ষেত্রে যুবকদের ভূকিমা অপরিসীম। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ, ইসলামের প্রচার-প্রসার, ইবাদত-বন্দেগি কিংবা যে কোনো দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে যুবকদের বিকল্প নেই। ব্যক্তি পরিবার ও সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুবকদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার।

মানুষের জন্য যৌবনকাল হচ্ছে জীবনকে সাজিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর সময়। কারণ মানুষ ছোটবেলায় যেমন দুর্বল থাকে তেমনি বৃদ্ধ বয়সেও সে দুর্বল হয়ে যায়। সব কাজের জন্য যৌবনকালই শ্রেষ্ঠ সময়। সে জন্যই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যৌবনকালকে প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন-
‘পাঁচটি বিষয়কে অন্য পাঁচটি বিষয়ের আগে মূল্যবান ভেবে কাজ সেরে নাও। তাহলো- ‘বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকালকে, অসুস্থতার আগে সুস্থতার সময়কে, দারিদ্যে পড়ার আগে প্রাচুর্যকে, ব্যস্ততার আগে অবসরকে আর মৃত্যু আসার আগে তোমার জীবনকে মর্যাদা দাও।’ (মুসতাদরাকে হাকেম)

যৌবনের ইবাদতকারীর জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠিন হাশরের ময়দানে আরশের ছায়ায় স্থান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে-
‘কেয়ামতের কঠিন ময়দানে আরশের ছায়ায় ৭ শ্রেণির ব্যক্তিরা স্থান পাবে। তন্মধ্যে একশ্রেণির ব্যক্তি হলো তারা- যারা যৌবনে আল্লাহর ইবাদত করতো বা আল্লাহর ভয়ে যাদের চোখ থেকে পানি ঝরতো।’

যৌবনকালের গুরুত্ব কত বেশি তা হজরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা থেকেই প্রমাণিত। তিনি বলতেন-
‘যৌবনকাল হলো এমন এক বস্তু যা হাতের তালুতে রাখা ছিল কিন্তু পড়ে গেল। ইবাদতে সময় দেওয়ার উপযুক্ত কাল হচ্ছে তোমার যৌবকন কালের দিনগুলো। তুমি কি জান; যৌবনের দিনগুলো তোমার কাছে আগত মেহমানের মতো! খুব দ্রুত তা তোমার কাছ থেকে বিদায় নেবে। আর তাই যা করার তা যদি এখনি না কর, তবে অনুশোচনা তোমাকে দীর্ঘদিন দগ্ধ করবে।’

একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, স্থান-কাল নির্বিশেষে বিশ্বমানবতার উৎকর্ষ সাধনে যৌবনকালের বিকল্প নেই। যে কোনো জাতির উত্থান-পতন, জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-সভ্যতা, শিক্ষা-দীক্ষা, উন্নতি অগ্রগতি ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে যুবকরাই মূল শক্তি। যুবকদের উপরই নির্ভর করে দেশ ও জাতি, ধর্ম-বর্ণের উজ্জ্বল ভবিষ্যত। হাদিসের এ বর্ণনাগুলো তা-ই স্মরণ করিয়ে দেয়=
১. আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের মাঠে ঠায় দাঁড় করিয়ে এই নেয়ামতের কথেই মনে করিয়ে দেবে আর জিজ্ঞাসা করনে- ‘তোমার যৌবনে তুমি কী করেছো? কোথায় কোন কাজে তা ব্যয় করেছো?’ (তিরমিজি)

২. আবার কেয়ামতের কঠিন ময়দানে ৭ শ্রেণির মানুষ নিরাপদে থাকবে এবং অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আরশের নিচে রহমতের শীতল ছায়ায় অবস্থান করার সৌভাগ্য লাভ করবে। তাহলো-
‘তাদের মধ্যে অন্যতম হবে ওই সব যুবক!, যারা যৌবনের তাড়না সংযত রেখে বস্তু ও জড়বাদী বন্ধন ছিন্ন করে ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ, যারা যৌবনকালে অত্যন্ত একগ্রতা ও মনোযোগের সাথে নিজেদেরকে আল্লাহ পাকের ইবাদত ও রিয়াজতে নিমগ্ন রেখেছে।’

মুসলিম যুবকরা দুনিয়া ও পরকালে এ মর্যাদা তখনই লাভ করবে; যখন কেবল ইসলামের শিক্ষা-দীক্ষা ও কৃষ্টি-সভ্যতার প্রচার-প্রসার, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজেদের একনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করবে। যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে। এসবের বিনিময়ে মহান আল্লাহ যুবকদের প্রতি তার রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত দান করবেন।

যুবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো-
যুবকরা নিজেদের জীবনের প্রতিটি ধাপে দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব অনুধাবন করে সচেতন হবে। দুনিয়া ও পরকালে সাফল্য লাভে ঈমানি চেতনায় উজ্জীবিত এবং ইসলামের চরিত্রে চরিত্রবান হতে হবে। নিজেদের জীবনে বে-দ্বীন আচরণ ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে কথা-কাজ ও আমলে সৎ, সরল, কর্তব্যপরায়ণ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

এজন্য যুবকদের একাগ্রচিত্তে নিষ্ঠার সঙ্গে কুরআন-সুন্নাহ যথাযথ আমল বাস্তবায়নে আদর্শবান মুসলিম যুবকদের ইতিহাস জেনে তা অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। ইসলামের জন্য বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কালজয়ী আদর্শ বাস্তবায়নে একনিষ্ঠ হতে হবে। তবেই সাফল্যমণ্ডিত হবে যুবকের যৌবনের সব কাজ ও আমল।

যুবকদের যে ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থাকতে হবে
মুসলিম যুবকদের মূলশক্তি হলো- তাদের ঈমানি চেতনা, শরীয়তের পুরোপুরি অনুশীলন ও দ্বীনী ইলম শিক্ষার অদম্য স্পৃহা। ইসলামের দ্রুত উন্নতির কারণও এটা। তবে দুটি বিশেষ কারণে যুবকের যৌবনের সোনালী সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কুলষিত হতে পারে যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। যা থেকে বেঁচে থাকা খুবই জরুরি। তাহলো-
১. ইসলাম ও মুসলমানদের চিরশত্রু ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানরা কৌশলে মুসলিম যুব সমাজকে ইসলামের প্রকৃত মূল্যবোধ ও চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য খুব সুক্ষ্ণ কূট-কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে। প্রশাসনিক কূট কৌশিলের মাধ্যমে শিক্ষাগত ধারায় পরিবর্তন সাধন করে মুসলমান যুবকদের বিভ্রান্তির শিকারে পরিণত করে।
২. যৌবনকালের উন্নতি-অগ্রগতির উপযুক্ত সময় ধ্বংসাত্মক চারিত্রিক ঘৃণ্য আক্রমণ করে বসে। এ সময় ঈমানি দৃঢ়তা যেমন জরুরি তেমনি চরিত্রগত পরিশুদ্ধতা আরও বেশি জরুরি। আমল-আখলা, চারিত্রিক পরিশুদ্ধি না আসলে যৌবনের সোনালী সময় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
আর ইয়াহুদি-খ্রিস্টানরা মুসলিম যুবকদের ঈমানি চেতনার মূলে কুঠারাঘাত করার লক্ষ্যে তাদেরকে চারিত্রিক অধঃপতনের অতল গহ্বরে তলিয়ে দিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। আবার কিছু কিছু অভিভাবকের অদুরদর্শীতা ও অবহেলার কারণে বাস্তুবাদী মোহে পড়ে যুব সমাজও ক্রমান্বয়ে যৌবনের উত্তাল তরঙ্গে ভেসে যেতে শুরু করে। এভাবেই শুরু হয় মুসলিম যুব সমাজে চরিত্রহীনতা, নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহীতার কালো অধ্যায়। যার ফলশ্রুতিতে মুসলমানরা আজ শিক্ষা-দীক্ষা, কৃষ্টি-সভ্যতা, ঐতিহ্য ও জাতীয় ঐক্য সবকিছুতেই নিজের ধ্বংস ও অধঃপতন ডেকে আনছে। এগুলো শুধু ইয়াহুদি-খ্রিস্টানদের শত্রুতার কারণেই নয় বরং নিজেদের অযোগ্যতা ও অসচেতনতাও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

সুতরাং যৌবনের সোনালী সময়কে কাজে লাগতে; দুনিয়া ও পরকালে নিজেদের জীবনকে সফলতায় ভরে দিতে হাদিসের উৎসাহ-উদ্দীপনা গ্রহণের বিকল্প নেই। যে উৎসাহে অন্ধকার যুগেও ১০ থেকে ৩৭ বছর বয়সী কিশোর-যুবকরা ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যা মুসলিম উম্মাহর সব যুবকদের জন্য হবে সেরা অনুপ্রেরণা। তাহলো-
১. জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় যৌবনকাল
শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্যের সমন্বয়ে মানুষের জীবন। যৌবনকাল এর মধ্যে সেরা। কুরআনের নির্দেশনায় তা ওঠে এসেছে এভাবে-

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ
আল্লাহ তিনি দূর্বল (শিশু) অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন অতঃপর দূর্বলতার পর (যৌবনে) শক্তিদান করেছেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুা রূম : আয়াত ৫৪)

২. যৌবন বয়সে নবি-রাসুলরা পেয়েছেন রেসালাতের দায়িত্ব
যৌবন বয়স এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, যুগে যুগে সব নবি-রাসুলরাই যৌবনকালকেই পেয়েছে নবুয়ত ও রেসালাতের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা নবি-রাসুলদের বেশির ভাগকেই যুবক বয়সেই নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব দিয়েছেন। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম, ইউসুফ, ইয়াহিয়া, ইসহাক, ঈসা, মুসা ও সর্বশেষ নবি ও রাসুল হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ অনেককেই যুবক বয়সে নবুয়ত ও রেসালাতের দায়িত্ব পেয়েছেন মর্মে কুরআন ও হাদিসে প্রমাণ পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব নবীকে যৌবনকালে নবুয়ত দান করেছেন, যৌবনকালেই আলেমদের ইলম প্রদান করা হয়।’ (তাবারানি, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, বায়হাকি)

৩. আসহাবে কাহফের ব্যক্তিরাও যুবক
এ ঘটনার মূলে রয়েছে কয়েকজন যুবক। ঈমানদার যুবকদের শিক্ষার নিমিত্তে সুরাতুল কাহফে তাদের ঘটনা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তোমাকে তাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয় তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।’ (সুরা কাহফ : আয়াত ১৩)

৪. যৌবনে হজরত ইবরাহিম
মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। যৌবনে ছোট্ট এক ঘটনার মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন পুরো ব্যাবিলনে। মূর্তি ভেঙে পুরো পৌত্তলিক সমাজব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাওহিদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়াজ ওঠল, কে করেছে এই কাজ, কার এত বড় সাহস? কুরআনে বর্ণনায়-‘তাদের কেউ কেউ বলল, আমরা শুনেছি এক যুবক এই মূর্তিগুলোর সমালোচনা করে। তাকে বলা হয় ইবরাহিম।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৬০)

৫. যৌবনে হজরত ইউসুফ
ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাঁর সৌন্দর্য ও চরিত্র সংরক্ষণের জন্য এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর যুবকদের কাছে অনুপম ও অনুকরণীয় আদর্শ। কুরআন সেই ঘটনা তুলে ধরেছে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে। তাহলো- ‘তাদের কাহিনীর মধ্যে বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।’ (সুরা ইউসুফ : আয়াত ১১১)

৬. যৌবনে হজরত মারিয়াম
হজরত মারিয়াম আলাইহিস সালামের নামে একটি সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘মারিয়াম’ নামে। তিনি ছিলেন একজন যুবতী। কুরআনে এসেছে- ‘আর স্মরণ করো এই কিতাবে উল্লিখিত মারিয়ামের কথা, যখন সে তার পরিবার থেকে আলাদা হয়ে নিরালায় পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিলো।’ (সুরা মারিয়াম : ১৬)

৭. হজরত মুসার আহ্বানে যুবকদের সাড়া
হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন সে সময়ের যুবকরা। যেই যুবকরা ফেরাউনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কিছু সাহসী মানুষ মুসা আলাইহিস সালামের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। তারাও ছিলেন যুবক। যাদের বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু মুসার প্রতি তার কওমের ক্ষুদ্র একটি দল ছাড়া কেউ ঈমান আনল না, এ ভয়ে যে, ফেরাউন ও তাদের পরিষদ তাদেরকে ফেতনায় ফেলবে।’ (সুরা ইউনুছ : আয়াত ৮৩)

৮. হজরত মুসার সঙ্গীও ছিল যুবক
আল্লাহর আদেশে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম খিদির আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সঙ্গী হিসেবে নিয়েছিলেন ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালামকে। তিনিও ছিলেন যুবক। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর স্মরণ কর, যখন মুসা তাঁর সহচর যুবকটিকে বলল, আমি চলতে থাকব যতক্ষণ না দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে উপনীত হবো কিংবা দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেব।’ (সুরা কাহফ : আয়াত ৬০)

৯. যুবক হজরত ইয়াহইয়া
হজরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও একজন কিশোরের বিষয়ে বলেন, ‘হে ইয়াহিয়া, তুমি কিতাবটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো’ আমরা তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করেছি। আর আমাদের পক্ষ থেকে তাকে স্নেহ-মমতা ও পবিত্রতা দান করেছি এবং সে মুত্তাকি ছিল।’ (সুরা মারিয়াম : আয়াত ১২-১৩)

এ ছাড়াও হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম ও তালুতের ঘটনা উল্লেখ করার মতো। ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ ও যুবকরা অগ্রাধিকারী। ইসলামের একেবারে প্রথম দিকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাদের বেশির ভাগই ছিলেন কিশোর ও যুবক। প্রসিদ্ধ সাহাবিগণ ১০ থেকে ৩৭ বছর বয়সের আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। যদিও বয়সের ব্যাপারটা ঐতিহাসিকদের মতে কমবেশি হতে পারে।

যৌবনকাল এমন এক বয়স; যে বয়সে মানুষ জীবনের উন্নতির চরম শিখরে পৌছতে সক্ষম। দুনিয়া কিংবা আখেরাতের জীবনের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যৌবন বয়সের গুরুত্ব অনুধাবন করে জীবনের প্রতিটি ধাপে যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সর্বশেষ - অতিথি কলাম