, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়: প্রিন্স

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়: প্রিন্স

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অভিযোগ করেছেন, ‘মধ্যরাতের ভোটের পর আওয়ামী সংগঠনগুলো এখন বেপরোয়া, মনুষ্যত্বহীন, লাগামহীন, উদ্ধত এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এদের কারণে দেশে এখন ঘাতক ও মৃত্যুরই সহাবস্থান। দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর জানমাল এখন নিরাপত্তাহীন। স্বাধীনতা শুধু ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের।’

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স এ কথা বলেন।

ঢাকায় ছাত্রদলের তিন নেতাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতারে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রিন্স বলেন, ‘আওয়ামী রাজনীতির যাঁতাকলে প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত হচ্ছে গণতন্ত্রকামী মানুষ, ভিন্নমতের মানুষ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ।

মধ্যরাতের ভোটের সরকারের প্রভাবেই সমাজে অপরাধপ্রবণতা বিশ্বের সব দৃষ্টান্তকে হার মানিয়েছে। বাংলাদেশ এখন কর্তৃত্ববাদী ভয়াবহ দুঃশাসনের আগুনে জ্বলছে। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন রক্তের হোলি খেলায় মত্ত।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধ মিডনাইট সরকার দেশকে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন-খুন-দখল ও গুমের উৎসবে মেতে উঠেছে। দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। কোভিড-১৯ করোনা মহামারিতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য মানুষ চরম অসহায় ও দুর্বিপাকগ্রস্ত হয়ে পড়লেও সরকার করোনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা তো নিচ্ছেই না, বরং জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও তাদের ওপর জুলুম নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশ পরিচালনার মতো করোনা মোকাবিলাতেও সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এখন টিকা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনাতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। করোনা নিয়ে সরকারের ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সমন্বয়হীনতা দেশ-বিদেশে সমালোচিত হচ্ছে। অথচ বিএনপি নিজস্ব সামর্থ্য নিয়ে করোনা রোগীদের সহযোগিতায় ওষুধ, অক্সিজেন, খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে।’

বিএনপির মানবিক উদ্যোগেও হামলা হচ্ছে, বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বিনা ভোটে ক্ষমতা দখলকারী ব্যর্থ সরকার কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সব কিছুই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। করোনায় অসহায় মানুষকে রক্ষা নয়, বরং জনগণ তাদের বিপক্ষে বলেই তারা জনগণকে শত্রু ভেবে বিভিন্ন কায়দায় জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত রয়েছে।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-নেতারা বলে থাকেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।দলের পক্ষ থেকে আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বলে কিচ্ছু নেই, তাদের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়। পুলিশের বন্দুক আর গুম-খুন-মামলা-জেল দিয়ে ভয়ঙ্কর শাসন কায়েম করে মানুষকে দমন করা হচ্ছে। সৎ সাহস থাকলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য এর আগেও আমরা আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভীত হয়ে নিজেদের অধীনে অনুগত প্রশাসনের মাধ্যমে দিনের ভোট রাতে অনুষ্ঠিত করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কলঙ্কিত ও ব্যর্থ করে দিয়েছে। আমরা এখনো সরকারকে আহ্বান জানাই, এতই যদি জনপ্রিয়তা বেড়ে থাকে তাহলে এখন ক্ষমতা ছেড়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। এদেশের জনগণ আপনাদের জনপ্রিয়তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

তিনি বলেন, ‘অনৈতিক আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী-নেতাদের এখন লাজ-লজ্জা বলতে কিছু নেই। তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করতে লজ্জাবোধ হয় না। আওয়ামী লীগ শুধু দুর্নীতি-দুঃশাসন-লুটপাট আর অর্থপাচার নয়, মিথ্যাচারেও সমান পারদর্শী। আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের নাৎসি সরকারের কুখ্যাত তথ্যমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের মিথ্যার থিউরিতে ডুবে আছে। বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিদিন চিরাচরিত মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে বিষোদগার করাই হচ্ছে তাদের এজেন্ডা।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, মো. মুনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি