, ১০ কার্তিক ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় পূর্ণিমা তিথির প্রভাবে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বেড়িবাঁধের বাইরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা। সোমবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া জোয়ারে এসব এলাকা প্লাবিত হয়। জোয়ারের প্রভাবে হাতিয়ায় নদীর পানি ৩-৪ ফুট বেড়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুর থেকে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়া উপজেলার সুখচর, নলচিরা, চরঈশ্বর, চর কিং, হরনী, চানন্দী, নিঝুম দ্বীপ, জাহাজমারা, বুড়ির চর, সোনাদিয়া ও তমরদ্দি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, পূর্ণিমা তিথির প্রভাবে জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় পানি উঠেছে। আগামী দুই দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এরপর আবার পানি স্বাভাবিক উচ্চতায় ফিরে আসবে। যেহেতু বেড়িবাঁধের বাহিরে প্লাবিত হয়েছে সেহেতু তেমন ক্ষতি হয়নি। 

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দিনাজ উদ্দিন বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ নেই, তাই জোয়ার হলেই প্লাবিত হয়। জোয়ারের কয়েক ঘণ্টা পর আবার পানি নেমে যায়। 

হাতিয়ার আফাজিয়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, আফাজিয়া বাজার এলাকা জোয়ারের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। সকল প্রকার যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

হরণী ইউনিয়নের চতলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা দলের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, হরণী ইউনিয়নের চতলা খাল এলাকায় ঠিকাদার বেড়িবাঁধ না করায় জোয়ারের পানি ছয় কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে। এতে ইসলামাবাদ, দক্ষিণ ইসলামপুর, মুফতি সমাজ, রহমতপুর, আহমদ পুর, আলামিন গ্রাম, ফরাজী গ্রাম, শরীয়তপুর সমাজ, গোবিন্দপুর, সেন্টার সমাজ, টাংকি সমাজ, জয়পুর, ৯ দাগ সমাজসহ প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর আগে লবণাক্ত পানি ঢুকে রবি মৌসুমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন  বলেন, যেহেতু জোয়ারে বেড়িবাঁধের বাইরে প্লাবিত হয়েছে তাই তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তারপরও আমরা খোঁজ রাখছি কোথাও কোনো ক্ষতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । 

তিনি আরও বলেন, পূর্ণিমা তিথির কারণে নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ হওয়ায় হাতিয়া-নোয়াখালী রুটে স্পিড বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদী স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্পিড বোট চালু করা হবে না।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ