, ২ কার্তিক ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

‘অর্থনীতি সচল রেখেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

‘অর্থনীতি সচল রেখেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে’

অর্থনীতি সচল রেখেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থেই নদীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে হবে দূষণ ও দখলের হাত থেকে।

শনিবার লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্ক মাঠে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্প আয়োজিত ‘বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক এক নাগরিক সভার বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বুড়িগঙ্গাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সময়ের সিএসএ রেকর্ড ধরে জমি মাপতে হবে। আদালতের রায় সঠিকভাবে মানলেই বুড়িগঙ্গাকে তার পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

আলোচনায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সারা পৃথিবীতে নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত খুব কম শহরই আছে। প্রকৃতির অপার দান ঢাকার চারপাশের নদীকে আমরা রক্ষা করতে পারছি না। পরিবেশ একা রক্ষা করা যায় না। সবাইকে নদী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। 

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, ট্যানারি বন্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা চাই না আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করতে ট্যানারি বন্ধ হোক। অর্থনীতি সচল রেখেই আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। 

তিনি বলেন, কারখানায় ইটিপি স্থাপন করে বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে তা নিষ্কাশন করতে হবে, যাতে উন্নয়নের পাশাপাশি নদীকেও বাঁচিয়ে রাখা যায়, পরিবেশও রক্ষা পায়। ব্রিটিশরা যদি বুড়িগঙ্গার চেয়ে বেশি দূষিত টেমস নদীকে দূষণমুক্ত করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরাও আমাদের নদীকে ফিরিয়ে আনতে পারব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান বাবুল বলেন, আগে চান্দিঘাটে পানির পাম্প ছিল। সেটির মাধ্যমে আমরা বুড়িগঙ্গার পানি খেতাম। এখন পরিশোধন করেও বুড়িগঙ্গার পানি পানযোগ্য থাকে না। ট্যানারি থেকে নির্গত ক্রোমিয়াম পানি দূষিত করছে যা ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করছে। এ থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে।

অন্যান্যরা বলেন, পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে চলে যাচ্ছে। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ পানি হাতে-পায়ে লাগলে সেখানে ঘা হয়ে যায়। বুড়িগঙ্গা আমাদের নদী। একে বাঁচানোর কাজে আমরা সম্পৃক্ত থাকতে চাই। নদী দূষণ কমানোর জন্য দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। নদী বাঁচাতে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার মো. হোসেন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোকাদ্দেস হোসেন, ২৩  নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল মো. মকবুল হোসেন প্রমুখ।

  • সর্বশেষ - জাতীয়