, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

৭ কোটি টাকা ভ্যাট দিল গুগল-ফেসবুক-অ্যামাজন-মাইক্রোসফট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

৭ কোটি টাকা ভ্যাট দিল গুগল-ফেসবুক-অ্যামাজন-মাইক্রোসফট

জনপ্রিয় প্রযুক্তি নির্ভর কোম্পানি গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট ৭ কোটি ৮৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬০ টাকার মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট জমা দিয়েছে। এদের মধ্যে মাইক্রোসফট এই প্রথমবারের মতো ভ্যাট দিল।

গুগল, ফেসবুক ও অ্যামাজন আগস্ট মাস হিসাবে ৪ কোটি ৬০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬০ টাকা এবং মাইক্রোসফট করপোরেশন জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের মোট ৩ কোটি ২৩ টাকার ভ্যাট জমা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা দক্ষিণের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে জানা যায়, আগস্ট মাসে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল ১ কোটি ৭ লাখ টাকা, আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস ৩৪ লাখ ৭ হাজার এবং ফেসবুকের তিনটি কোম্পানির নামে মোট ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ভ্যাট জমা দেখিয়েছে তাদের ভ্যাট রিটার্নে।

ফেসবুকের তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফেসবুক আয়ারল্যান্ড লিমিটেড ২ কোটি ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৪৩ টাকা, ফেসবুক পেমেন্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ২৫ হাজার ৭০৯ টাকা ও ফেসবুক টেকনোলজিস আয়ারল্যান্ড লিমিটেড ১৬ হাজার ৬৫ টাকার ভ্যাট জমা দিয়েছে। 

অন্যদিকে, অপর জায়ান্ট মাইক্রোসফট রিজিওনাল সেলস প্রাইভেট লিমিটেড নামে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়ে প্রথমবারের মতো ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ভ্যাট জমা দিয়েছে। তবে তাদের ভ্যাট রিটার্ন এখনও ঢাকা দক্ষিণের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট অফিস পায়নি বলে জানা গেছে। মাইক্রোসফট গত ১ জুলাই ভ্যাট নিবন্ধন নেয়।

এর আগে বাংলাদেশে ব্যবসা করে এমন নিবন্ধিত অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাট পরিশোধ ও ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়াসহ সরাসরি ভ্যাট সংক্রান্ত সেবা পেতে গুগল গত ২৩ মে, আমাজন ২৭ মে এবং ফেসবুক ১৩ জুন বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) নেয়। 

বর্তমানে ভ্যাট আইন অনুসারে, ভ্যাট পরিশোধের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভ্যাট এজেন্টরা দায়বদ্ধ। ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন পেতে ও ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সংস্থাগুলো ২০১৯ সাল থেকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাই ভ্যাট আইন অনুসারে সরাসরি এই সেবা পাওয়ার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে দাবি ছিল। 

‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ অনুযায়ী ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানকে মূসক নিবন্ধন নিতে হবে এবং তাদের বাংলাদেশে অফিস স্থাপন অথবা মূসক এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের প্রথম দিকে আলাদা ভ্যাট নিবন্ধন নম্বরের আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর।

অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক বিধিমালা ২০১৬ অনুসারে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাস শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যথায় সুদ ও জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য