, ১০ কার্তিক ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

ছুটির দিনে বাজারে আগুন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ছুটির দিনে বাজারে আগুন

পুরো সপ্তাহের জন্য বাজার করতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল সকাল রাজধানীর গুদারাঘাট বাজারে উপস্থিত বেসরকারি চাকরিজীবী হাবিবুর রহমান। কিন্তু বাজারে কাঁচা সবজিসহ মাছ, মাংস, মুরগি, ডিম সব কিছুরই অতিরিক্ত দাম দেখে তিনি কিছুটা থমকে গেছেন। চড়া দামের কারণে সপ্তাহের বাজারের বদলে শুধু দুই দিনের বাজার করে ফিরেছেন তিনি।

শুধু হাবিবুর রহমানই নন বাজারে এসে সব কিছুর চড়া দামে হতাশা প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। সব মিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে বাজারে আসা প্রায় সব ক্রেতারাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে পুরো ব্যাগের পরিবর্তে ব্যাগের অর্ধেকটা বাজার করে ফিরছেন।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে, সেই সঙ্গে আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা, শসা ৭০ টাকা,করলা ৭০ টাকা, করলা হাইব্রিড ৫০ টাকা, সিম ১৬০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে। 

অন্যদিকে, মাছের বাজারেও প্রতিটি মাছ তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে পাঙ্গাশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। শিং মাছ (মাঝারি) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, চিংড়ি মাঝারি ৫০০ টাকা, ইলিশ বড় ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, ইলিশ ছোট ৬৫০ থেকে ৭৫০, এক কেজি ওজনের ইলিশ ৯৫০ টাকা, রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, কাতল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

মাংসের বাজারেও সব প্রকার মাংস বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে, শুক্রবারের সকালে বাজারে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, গরুর মাংস ৫৮০ টাকা, বয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, লেয়ার ২৩০, পাকিস্তানি মুরগির কেজি ৩০০ টাকা আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজিতে।

শুক্রবার সকালে গুলশান সংলগ্ন গুদারাঘাট বাজার থেকে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, সব কিছুর দাম বেশি। যে জিনিসেরই দাম জিজ্ঞেস করি তারই দাম চড়া। সব কিছুর এত বেশি দাম হলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষরা কী খাবে? বয়লার মুরগি খেয়ে মাংস খাওয়ার স্বাদ ভুলে থাকি কোনো রকমে। কিন্তু সেই বয়লার মুরগির দামও ১৬০ টাকা কেজি। যেহেতু চাকরি করি তাই সপ্তাহের অন্যদিনে সময় পাই না। তাই আজ ছুটির দিকে পুরো সপ্তাহের জন্য বাজার করতে এসেছিলাম। কিন্তু প্রতিটি জিনিসের দামের ঊর্ধ্বগতি দেখে অর্ধেক ব্যাগ বাজার করেই ফিরতে হচ্ছে। বেশি বাজারের ইচ্ছে থাকলেও অতিরিক্ত দামের কারণে তুলনামূলক কম জিনিস নিয়েই ফিরছি।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা কাঁচা বাজারে ছুটির দিন সকালে বাজার করতে এসেছেন গার্মেন্টসের চাকরিজীবী মনিরুল ইসলাম। তিনিও বাজারে সব জিনিসের চড়া দাম দেখে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এলেই হতাশ হতে হয়। সব কিছুর এত চড়া দাম এতে মনমতো কিছুই কেনা যায় না। শখ করে কিছু খেতে চাইলেও অতিরিক্ত দামের কারণে তা কেনা হয়ে ওঠে না। তাই কোনো মতে স্বল্প পরিমাণে বাজার করে খেয়ে পড়ে টিকে আছি। আজকের বাজারে সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম, এমনকি বয়লার মুরগিরও বেশি দাম। এত বেশি দাম হলে আমাদের মতো গরিব মানুষ কী খাবে?

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর