, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক: পরশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক: পরশ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিশ্বের একজন অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু জন্ম না নিলে আমরা আজ একটা মানচিত্র পেতাম না, একটা পতাকা পেতাম না, জাতীয় সংগীত পেতাম না; শেখ হাসিনা জন্ম না নিলে আমরা গণতন্ত্র পেতাম না, সামাজিক ন্যায়বিচার পেতাম না, অর্থনৈতিক মুক্তি পেতাম না, ভোট ও ভাতের অধিকার পেতাম না এবং একটা মর্যাদাশীল দেশ পেতাম না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলকে সুসংগঠিত করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের সংগ্রামে নেমেছিলেন। সকল দুঃখ-কষ্ট বুকে নিয়ে রাত-দিন সংগঠনের পেছনে সময় দিতেন। দলকে সুসংগঠিত করার জন্য তিনি সমগ্র দেশ সফর করে বেরিয়েছেন।

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান আরও বলেন, আওয়ামী লীগের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এবং জাতির পিতার হত্যার বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে কঠোর পরিশ্রম আর সংগ্রাম করতে হয়েছে। পুড়ে পুড়ে খাঁটি হয়েছেন তিনি। তার জীবনের সংগ্রাম এবং স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে শুধু একজন ত্যাগী নেত্রী হিসেবেই সৃষ্টি করেনি, বিশ্বের একজন অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত দেশে কী করেছে? জঙ্গিবাদের উত্থান, বারংবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, কৃষকের ওপর অত্যাচার, সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার, রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি, মৌলবাদের উত্থান থেকে শুরু করে নৌকার ভোটারদের ওপর তাদের অত্যাচার-নির্যাতনের ইতিহাস কারো অজানা নয়।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রসঙ্গে শেখ পরশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে সাম্যের কথা, অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা এবং সামাজিক অবিচারের কথা বলেছেন। বৈশ্বিক অঙ্গীকারের উদাহরণস্বরূপ তিনি টিকার ন্যায্য হিস্যা এবং ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের প্রতি অবিচারের কথা বলেছেন। একইসঙ্গে তিনি দ্রুত বর্ধমান পাঁচটি অর্থনৈতিক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কথা বলেছেন।

‘বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- টিকা বৈষম্য দূরীকরণ, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা পাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ, প্রবাসী ও অধিবাসীদের অধিকারের কথা, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা এবং রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন’- যোগ করেন পরশ।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দুই প্রজন্ম ধরে এ দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা করে যাচ্ছেন। তার কাছ থেকে আমাদের প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। এ দেশের যুবসমাজ শেখ হাসিনার দেখানো পথে জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

সভায় যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। তারা যুদ্ধাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদকে অপমান করেছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াতের সব অপশক্তিকে রাজপথে প্রতিহত করে শেখ হাসিনা এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন, যুবলীগের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি