, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম

অল্প অল্প করে বাড়লেও এখনো লক্ষ্যমাত্রার নিচে আছে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি (বিতরণ হার)। ২০২২ সালের অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। তবে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।

২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। কিন্তু নভেম্বর শেষে এই প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে। আগের মাস অক্টোবর শেষে যা ছিল ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে বিনিয়োগ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া ডলারের দাম বাড়ার কারণে বেশি ঋণের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে নভেম্বরে কিছুটা বেড়েছে ঋণ প্রবৃদ্ধি।

সাধারণভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো তা নেমে যায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাপক হারে কমে গিয়ে ২০২০ সালের মে মাসের শেষে প্রবৃদ্ধি নামে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তবে পরের মাস জুন থেকে তা অল্প অল্প করে বাড়তে থাকে।

এমনিতে এ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন (১৪.১০%) কম করা হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে ছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। মূলত সাম্প্রতিক সময়ের ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্নেষণ করে মুদ্রানীতিতে প্রাক্কলন কিছুটা কমানো হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর থেকে এমনিতেই ঋণের চাপ বেড়েছে। কারণ, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের মধ্যে। এজন্য অনেকেই নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ উৎপাদনক্ষমতা বাড়াচ্ছেন। গত চার মাসে ডলারের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে আমদানিকারকদের ঋণপত্রের মূল্য বেড়ে গেছে। এতে ঋণও বাড়ছে। আবার চলতি বছর আবাসন, গাড়ি ও ব্যক্তিগত ঋণও বেশ বেড়েছে। এসবের প্রভাব পড়েছে ঋণ বিতরণে।

সাধারণভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো তা নেমে যায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাপক হারে কমে গিয়ে ২০২০ সালের মে মাসের শেষে প্রবৃদ্ধি নামে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তবে পরের মাস জুন থেকে তা অল্প অল্প করে বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায় দেখা যায়, ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে যায়। এরপর মার্চে আবার বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এপ্রিলে ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং মে মাসে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশে। এরপর জুনে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, জুলাইয়ে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং আগস্টে ১৪ দশমিক ০৭ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, এখন থেকে বছরে দুইবার মুদ্রানীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতি আগামী ১৫ জানুয়ারি (রোববার) ঘোষণা করা হবে। নতুন মুদ্রানীতির জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য