, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ অনলাইন সংস্করণ

এমপি হারুনের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উন্নয়ন হয়নি : ওদুদ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

এমপি হারুনের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উন্নয়ন হয়নি : ওদুদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেছেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) হারুনুর রশীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী। গত ৪ বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন অগ্রগতি হয়নি এই জেলায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কিছু কুচক্রী নেতাকর্মীর ষড়যন্ত্রের কারণেই এমন ফল ভোগ করতে হয়েছে আমাদেরকে।

দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের পদত্যাগে শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শহরের ওয়ালটন মোড়স্থ নাহালা ভবনের নিচতলায় এই মতবিনিময় সভা করা হয়।

সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল ওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি ভরসা রেখেছেন বলেই পুনরায় নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচিত হতে পারলে জেলার ব্যাপক উন্নয়নে অবদান রাখবো। এর আগে গত নবম ও দশম জাতীয় সংসদে এমপি নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছি। আমার চেষ্টায় ও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণ, যুব উন্নয়ন ভবন নির্মাণ, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তর ও বিরতিহীন ট্রেন চালু করা হয়েছে। এছাড়াও চলমান থাকা মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম প্রকল্প ও নদী রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজের গতি কমে গেছে আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায়। 

তিনি আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হতে পারলে চলমান কাজগুলো দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হতো। কিন্তু এমপি হারুনের উদাসীনতায় তা হয়নি। জনগণ আবারো সুযোগ করে দিলে সব কাজ করব ইনশাআল্লাহ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ হিসেবে জেলায় অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে কাজ করব। 

আব্দুল ওদুদ বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু থেকে শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ  দ্রুতগতিতে করবো। ২০১৮ সালের ন্যায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা আওয়ামী লীগে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

তিনি বলেন, করোনাকাল থেকে এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ৫ জোড়া ট্রেন বন্ধ রয়েছে। আমরা জানি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতি। তাই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বললেই খুব সহজেই কাজ হয়ে যাবে। আমরা এর আগেও দেখেছি জেলায় জরাজীর্ণ রেললাইন ছিল, তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ রোকনুজ্জামান, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হুদা অলক, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াসমিন সুলতানা রুমা প্রমুখ।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর