, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় অষ্টমীর স্নান করলেন ৪ লাখের বেশি পুণ্যার্থী

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় অষ্টমীর স্নান করলেন ৪ লাখের বেশি পুণ্যার্থী

ময়মনসিংহে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র নদে ৪ লাখের বেশি পুণ্যার্থী অষ্টমী স্নান করেছেন। বুধবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পুণ্যতোয়া খ্যাত ব্রহ্মপুত্র নদের তীর সব বয়সী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিলো। ব্রহ্মপুত্র নদের বিশাল তীর এলাকা, রেলীর মোড় থেকে কাচারীঘাট সড়কের দু’পাশ, নগরীর বড় বাজার, ছোট বাজার, স্বদেশী বাজার, আঠার বাড়ি বিল্ডিং ও দুর্গাবাড়ি এলাকায় বসেছিলো মেলা। মেলা থেকে বাহারি জিনিসপত্র এবং গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার কিনে পুণ্যার্থীরা বাড়ি ফিরেন। অষ্টমী স্নান উপলক্ষে ময়মনসিংহ নগরীতে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিলো। সুষ্ঠুভাবে অষ্টমী স্নান সম্পন্ন করার জন্য ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বিপিএম বুধবার ব্রহ্মপুত্র নদের স্নান ঘাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা এবং বিভিন্ন বয়সের পুণ্যার্থীদের সাথে কথা বলেন।


ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবারের অষ্টমী স্নান ৪ লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটে বলে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে অষ্টমী স্নান সম্পন্ন হওয়ায় তারা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু এবং পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য এবার দুর্গাবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দিরের শৌচাগার ও স্নানাগার পুনঃনির্মাণ করে দেয় সিটি কর্পোরেশন। ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারীঘাটে সুবিশাল প্যান্ডেলে অস্থায়ী স্নানাগার ও শৌচাগার তৈরী এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের জন্য সড়ক সংস্কার করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। পুলিশ ও র‌্যাবের নজরদারি ছিলো চোখে পড়ার মতো। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু’র নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দফায় দফায় অষ্টমী স্নান ঘাট পরিদর্শন করেন। এ সময় খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জানা যায়, এবার অষ্টমী স্নানের শুভ লগ্ন ছিলো ভোর ৪ টা থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত। এই দেড় ঘণ্টা স্নানের উত্তম লগ্ন ধার্য করা হয়েছিলো। তবে তিথি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত চলে স্নান। সূত্র মতে, প্রায় ৪ শ’ বছর ধরে প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদকে তারা তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচনা করেন। সনাতন ধর্ম মতে, অষ্টমী স্নান একটি পুণ্যকর্ম এবং এই স্নানের মাধ্যমে তাদের পাপমোচন হয়। আর পাপমোচনের অভিপ্রায়ে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী সমবেত হন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। প্রতি বছরের মতো এবারও স্নান উদযাপনে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ৪ লাখের বেশি পুণ্যার্থী ময়মনসিংহে আসেন। পুণ্যার্থীরা মঙ্গলবার রাত থেকেই দলে দলে ময়মনসিংহ নগরীতে আসতে থাকেন। তারা বিভিন্ন মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আত্মীয়ের বাড়ি, হোটেল এবং বিভিন্ন মার্কেট ও ভবনের বারান্দায় আশ্রয় নেন।



  • সর্বশেষ - জাতীয়