, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ময়মনসিংহের পদবঞ্চিত নেতারা

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ময়মনসিংহের পদবঞ্চিত নেতারা

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ময়মনসিংহের পদবঞ্চিত নেতাদের একাংশ। বিএনপির আন্দোলন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরণের ঘটনা ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সোমবার দুপুরে নগরীতে পদবঞ্চিত নেতাদের নামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ২ শতাধিক লোকের মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ, পদবঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতা, সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা, যুবক, তরুণ ও নারীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদবঞ্চিত ২৬ জনের কথা উল্লেখ করলেও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ৭-৮ জন। সব কিছুর দায়িত্ব পালন করেন ভিন্ন চরিত্রের এক ব্যক্তি। সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক নেতার কর্মকাণ্ডে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের আওয়ামী শিবিরে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সোমবার রাতে দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, আমরা বিচ্ছিন্নভাবে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটি সম্পর্কে নানান অভিযোগ পাচ্ছি। তবে অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। যাচাই-বাছাই করেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পদবঞ্চিতরা কমিটি নিয়ে কথা তুলতেই পারেন। কমিটি থেকে কাউকে বাদ অথবা যুক্ত করার এখন আর কোনো সুযোগ নেই।


মানববন্ধনে নবগঠিত জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া ১ নম্বর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, ৭ নম্বর সহ-সভাপতি শিল্পপতি ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল, ৯ নম্বর সহ-সভাপতি শিল্পপতি এম এ ওয়াহেদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক ড. সিরাজুল ইসলাম, মহিলা সম্পাদক অধ্যাপক দিলরুবা শারমিন, মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু শাহাদত সায়েম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অধ্যাপক মফিজুন নূর খোকা, ৩ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক সবুজ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোস্তফা মামুনুর রায়হান অসীম, সদস্য এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছ, নূরজাহান মিতু, অ্যাডভোকেট আব্দুল মোত্তালেব লাল ও মৃনাল মুর্মূ, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট কায়সার আহমেদ ও ড. আবুল হোসেন দীপু প্রমুখের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করা হয়। ৩ জনের পিতার নামে যুদ্ধাপরাধের, ১ জনের শ্বশুরের নামে যুদ্ধাপরাধের, ১ জনের বিরুদ্ধে বাকশাল করার, ৫ বছর আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত থেকে সহ-সভাপতির পদ পাওয়া, সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ না করেই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুক্ত থাকা, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত না থেকে পদ পাওয়া, সিরাজ সিকদার বাহিনীর সর্বহারা পার্টি করা এবং অন্য জেলার বাসিন্দা হওয়ার অভিযোগ করা হয়। বলা হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পাশ কাটিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক কমিটির নেতারা অনৈতিকভাবে কমিটি গঠন করেছেন। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। কারণ কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পছন্দের লোকজনসহ সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী রয়েছেন। মানববন্ধনের বিষয়টি গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ বলে সূত্র জানিয়েছে।


অভিযোগ সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির ৭ নম্বর সহ-সভাপতি শিল্পপতি ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল সোমবার রাতে দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, যুদ্ধাপরাধীর নাম বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে অপ রাজনীতি করা হচ্ছে। আমার পিতার নামে নাম গফরগাঁওয়ে একজন যুদ্ধাপরাধী ছিলেন। তার পিতার নাম এবং গ্রাম ভিন্ন। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অপপ্রচার চালানো হয়। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতারা বিষয়টি অবগত আছেন। তিনি বলেন, আমি ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ছিলাম। ২০১৬ সাল থেকে নবগঠিত কমিটি হওয়ার আগে পর্যন্ত ১০ নম্বর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। এবার ৭ নম্বর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। ২০০৬ সাল থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ নম্বর যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছি। দুঃসময়ে এলাকার নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি। সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক সবুজ বলেন, কিশোর বয়সে ছাত্রলীগ দিয়ে আমার রাজনীতি শুরু। এর আগে উপজেলা এবং জেলা আওয়ামী লীগে দায়িত্ব পালন করেছি। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছি। অবস্থান এবং ত্যাগের কারণে আমাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শ্বশুরের দায় আমাকে নিতে হবে কেন।


বন ও পরিবেশ সম্পাদক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, আমি ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ করেছি। পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের নতুন পদের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু পরিষদ সদর উপজেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে জেলা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন পর্ষদের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি বলেন, এর পরও যদি কেউ বলে, আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। ড. সিরাজ গণ কল্যাণ পরিষদের (জিকেপি) প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক এবং জিকেপি ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। জিকেপি ময়মনসিংহের দরিদ্র, অসহায় এবং দুস্থ মানুষের কল্যাণে কাজ করে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে জিকেপি কলেজ। অভিযোগ সম্পর্কে অভিন্ন বক্তব্যে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছ ছাড়াও অন্যান্যরা বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। পদবঞ্চিত ও দলছুট নেতারা মিথ্যা এবং বানোয়াট অভিযোগ করেছেন।




  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর