, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহ সদরে নৌকার প্রার্থী শান্তকে ‘তথাকথিত নেতা’ বলায় উত্তেজনা সৃষ্টি

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহ সদরে নৌকার প্রার্থী শান্তকে  ‘তথাকথিত নেতা’ বলায় উত্তেজনা সৃষ্টি

উত্তাপ ছড়াচ্ছে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের নির্বাচন। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে লাগে অবস্থা। কেউ কাউকে মানতে এবং ছাড় দিতে নারাজ। নগরীর চিরচেনা সেই ব্যক্তিরাও এখন বাঘের ভূমিকায়। নৌকার প্রার্থী মোহিত উর রহমান শান্তকে ‘তথাকথিত নেতা’ বলায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। সাফাই গাইতে গিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। সোমবার রাতে এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত উত্যপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বলেছে, বিষয়টি একান্তই ওই ছাত্রলীগ নেতার। সংগঠন কোনো অবস্থাতেই তার দায় নেবে না। আওয়ামী লীগের নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক ছড়াচ্ছে উত্তাপ। নির্বাচনের আরো ১২ দিন বাকি। এরই মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায়। সমান তালে ব্যয় বহুল প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ট্রাক’ এর সমর্থকরা। টাকাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে নেতা, কর্মী ও সমর্থক ভাগিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। পকেট ভারী হচ্ছে ‘ওয়ানম্যান শো’ নেতাদের।

জানা যায়, ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে নৌকার প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত রবিবার বিকালে তার ফেসবুক পেজ থেকে ছবি ও প্রেসক্রিপশনসহ ৩ মেডিকেল ছাত্রের বিষয়ে পোস্ট দেন। ছাত্ররা বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পেইনে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল হক শামীমের (ট্রাক) পক্ষে মানুষকে প্রেসক্রিপশন দেন। ডাক্তার না হয়ে মেডিকেল ছাত্ররা এ কাজ করতে পারে না বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করে শান্ত তাদের বিচার দাবি করেন। এক ঘণ্টার মাথায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সঞ্জীব সরকার তার ফেসবুক আইডি থেকে পাল্টা পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি মেডিকেল ছাত্রদের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি নৌকার প্রার্থী শান্তকে ‘তথাকথিত নেতা’ বলেন। নৌকার সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে ফেসবুকে পাল্টা পোস্ট ও মন্তব্য শুরু হয়। ঘটনাটি ভালোভাবে নেননি ট্রাক প্রতীকের সমর্থকরাও। অন্যদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উস্কানিমূলক যেকোনো বিষয় থেকে নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নৌকা ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী।

ময়মনসিংহ সদর আসনের মোট ভোটার ৬,৫০,২৮৯। এর মধ্যে ৩,২২,৮০১ পুরুষ, ৩,২৭,৪৭৮ নারী ও ১০ জন হিজড়া। সিটি কর্পোরেশনসহ ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে সদর আসন। বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। কৌশলগত কারণে এবার তিনি প্রার্থী হননি। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে মোহিত উর রহমান শান্ত। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এফবিসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। লাঙ্গল নিয়ে জাতীয় পার্টির আবু মুসা সরকার, বিএনপির সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন খান দুলু কাঁচি, তৃণমূল বিএনপির দীপক চন্দ্র গুপ্ত সোনালী আঁশ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পরেশ চন্দ্র মোদক গামছা প্রতীক নিয়ে প্রমুখ নির্বাচন করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহ সদর আসনে প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে নৌকা ও ট্রাক ছাড়া বাকি ৮ জন প্রার্থী ৪০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পাবেন। সর্বোচ্চ ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হবেন নৌকা অথবা ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী।


  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর