, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

মসিক নির্বাচনের চমক এখনো শেখ হাসিনার হাতে ইকরামুল হক টিটু’র প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থন

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

মসিক নির্বাচনের চমক এখনো শেখ হাসিনার হাতে ইকরামুল হক টিটু’র প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থন

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের চমক এখনো প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে। এবার দলীয় মনোনয়ন না খাকলেও সমর্থন দেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা নিশ্চিত, গ্রহণযোগ্যতা, বলিষ্ঠ ভূমিকা ও বিচক্ষণতা বিবেচনায়। শেখ হাসিনা মসিক ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চমকের ইঙ্গিত দিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলমান উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে সদ্য সাবেক মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটুকে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেওয়ার বিষয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। যার মূলমন্ত্র রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছর নগরীকে ঢেলে সাজানোর বিষয়টি টিটু’র জন্য প্লাস পয়েন্ট। যা আগের ৩৭ বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্লিন ইমেজের সদ্য সাবেক মেয়র টিটু ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে লাখ লাখ মানুষকে আন্দোলিত করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। সূত্র মতে, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক মেয়র টিটু ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এহতেশামূল আলম, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদেক খান মিল্কী টজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সদস্য কৃষিবিদ ড. মোঃ রেজাউল হক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট ফারামার্জ আল নূর রাজিব মঙ্গলবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে সোমবার জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম স্বপন মন্ডল মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সূত্র জানায়, ৫ বছর আগে গঠিত দেশের সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন ময়মনসিংহের উন্নয়নের জন্য সরকার ১৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উন্নয়ন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। উন্নয়ন কাজের জন্য মেয়র টিটু মাত্র ২ বছর সময় পান। এই ২ বছরে তিনি প্রায় ৩২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করিয়েছেন। দৃশ্যমান এসব কাজের মধ্যে ১০০ কিলোমিটার আরসিসি, বিসি ও সিসি সড়ক, ৪৫ কিলোমিটার ড্রেন ও ৩ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান রয়েছে ৩৫৩ কিলোমিটার আরসিসি, বিসি ও সিসি সড়ক, ২৪৭ কিলোমিটার ড্রেন ও ১০ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। কমে যাবে নগরীর কয়েকটি এলাকার জলাবদ্ধতা। স্মার্ট ময়মনসিংহ নগরী বিনির্মাণে প্রকল্পগুলো মাইলফলক হয়ে থাকবে। চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন কাজ হয়েছে নতুন ২২ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটিতে যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে প্রশস্ত সড়ক ও ড্রেন পাল্টে দিয়েছে নাগরিকদের জীবনমান। উদ্ধার করে পানির প্রবাহ সৃষ্টি করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে দখল হওয়া ৫টি খালের ১৬ কিলোমিটার এলাকা।
জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকা আলোকিত করতে ১৭১ কিলোমিটার সড়কে স্থাপন করা হয়েছে জিআই পোলসহ ৬৮৯০টি দৃষ্টিনন্দন সড়ক বাতি। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সোলার প্যানেলসহ স্থাপন করা হয়েছে ৩৫৮টি সড়ক বাতি। নয়নাভিরাম জয়নুল উদ্যানে লাগানো হয়েছে ২৭০টি গার্ডেন লাইট। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাঘমারায় নগর মাতৃসদন ও গুলকীবাড়িতে নির্মাণ করা হচ্ছে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চলমান রয়েছে একটি নগর মাতৃসদন ও ৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র। নগরবাসীর গলার কাটা শালবন পরিবহনকে মাসকান্দা থেকে পরিচালনার জন্য টারমিনাল সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। শালবন শিগগিরিই মাসকান্দা থেকে চলাচল করবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ১১ মার্চ ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠের জনসভাস্থলের কাছে ৫৭০ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ২৭৬২ কোটি ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের দৃশ্যমান কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। সূত্র মতে, ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভাকে বিলুপ্ত করে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ৫ বছর নগরীতে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন কাজ হয়েছে। মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি টিটু’র নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক এবং অলিগলিতে হয়েছে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে করোনা যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা রেখে ‘মানবিক মেয়র’ উপাধি পেয়েছেন মোঃ ইকরামুল হক টিটু। বিশেষ ব্যবস্থায় নগরবাসীকে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। করোনা সঙ্কট নিরসনে নগরীর ৩৩ ওয়ার্ডে চালু করা হয়েছিলো প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ খাদ্য কর্মসূচি। ৭৫ হাজার পরিবার এই সহযোগিতা পায়। এর মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি পরিবার মানবিক সহায়তা ও ১৮ হাজার পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পেয়েছে। সরকারি ১ লাখ, মেয়রের ব্যক্তিগত তহবিলের ৫৫ হাজার ও সংগ্রহ করা সাড়ে ৫ হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয় অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে কয়েক দফায় বরাদ্দ পাওয়া ৬০০ টনের বেশি চাল, ৬০ টনের বেশি ডাল ও ১১০ টন আলু উপহার হিসেবে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। লকডাউন দীর্ঘ হওয়ায় অনেক পরিবার একাধিকবার খাদ্যপণ্য পেয়েছে। মেয়র টিটু’র নির্দেশনা অনুযায়ী পুরুষ ও নারী কাউন্সিলররা প্রধানমন্ত্রীর উপহার চাল, ডাল ও আলু বিতরণ করেন।



  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর