, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহে দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন সম্পন্ন স্ত্রী-ছেলে নিয়ে আত্মীয়ের জানাযায় যাচ্ছিলো বাবুল

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহে দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন সম্পন্ন স্ত্রী-ছেলে নিয়ে আত্মীয়ের জানাযায় যাচ্ছিলো বাবুল

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। থেতলে গিয়ে বিভৎস হয়েছে লাশগুলো। স্ত্রী-ছেলে নিয়ে আত্মীয়ের জানাযায় যাচ্ছিলেন বাবুল। শেষে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন নিজেরাই। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টায় ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবোঝাই একটি অটোরিকশা আলালপুরের কাছে চর বড়বিলায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আদিল পরিবহনের বেপরোয়া গতির বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ৭ জন প্রাণ হারান। অটোরিকশাটি তারাকান্দা থেকে যাত্রী নিয়ে ময়মনসিংহ শহরতলীর শম্ভুগঞ্জে যাচ্ছিলো। একটি মাহেন্দ্রাকে ওভারটেক করে সামনে যেতেই বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সাথে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। উভয় প্রান্তে যানজটে আটকা পড়ে হাজার হাজার মানুষ। উদ্ধার কাজ শেষে পুলিশ সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করে। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। পুলিশ ঘাতক বাসটি আটক করেছে। চালক ও অন্যান্য স্টাফ পলাতক। দুর্ঘটনার বিষয়ে শুক্রবার রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাত ১১ টায় এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঘাতক বাসের চালক ও স্টাফদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছিলো।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুরের আশাবট গ্রামের বাবুল আহমেদ (৪৫), তার স্ত্রী শিলা আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে সাদমান হোসেন (৮)। অটোরিকশা চালক ডিউ পূর্বপাড়ার আল আমিন (৩০), ফুলপুরের সিংহেশ্বরের আব্দুল বারেক মন্ডল (৭৬) ও কুটুরাকান্দার ময়েজ উদ্দিন (৫৬) ও ধোবাউড়া উপজেলার ডুমঘাটার গোলাম মোস্তফা (৫০)। নিহত বাবুল স্ত্রী-ছেলে নিয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদীয়ায় আত্মীয়ের জানাযায় যাচ্ছিলেন। জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয় নিহতদের পরিবারে।
ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। দিনভর ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একে একে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। তারা রাতেই জানাযা শেষে লাশগুলো দাফন করেন। রাত ৯টা পর্যন্ত পরিচয় জানা যাচ্ছিলো না নিহত ৩ জনের। এসআই মিঞা মোহাম্মদ জোবায়ের খালিদ মর্গের দায়িত্ব পালন করেন।

  • সর্বশেষ - মহানগর