, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

একটানা তিনদিন শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন রেকর্ড পরিমাণ ভোটে নির্বাচিত মেয়র টিটু

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

একটানা তিনদিন শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন রেকর্ড পরিমাণ ভোটে নির্বাচিত মেয়র টিটু
নগরবাসীর সাথে একটানা তিনদিন শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে নির্বাচিত মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু। হাজার হাজার মানুষ প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে নগরীর কালীবাড়ি কবরখানার বাসায় ছুটে যান। বিপুল মানুষের ভিড়ে টিটুকে ফুল দিয়েছেন সর্বস্তরের নগরবাসী। শিশু এবং বৃদ্ধরাও টিটুকে শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করলেন। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হন। মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার এবং আবেগঘন কথায় টিটুও হঠাৎ হঠাৎ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শনিবার নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ অধিকাংশ কেন্দ্রে বিজয়ী হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই সমর্থকরা ফুল নিয়ে টিটুর বাসা ও প্রধান নির্বাচন পরিচালনা কেন্দ্রের সামনে ভিড় করেন। দুপুরের খাবার ও রাতে ঘুমানোর বিরতি দিয়ে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত চলে শুভেচ্ছা বিনিময়। বুধবার বন্ধ ছিলো শুভেচ্ছা বিনিময়। সূত্র মতে, মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু রাজনৈতিক ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে দেখা করার জন্য ঢাকায় গেছেন।

নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সমর্থকরা মেয়র টিটুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নগরীর সবগুলো দোকানে থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণের ফুল শেষ হয়ে যাওয়ার পর দোকানীরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুল সংগ্রহ করেন। পরদিন সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত চলে সর্বস্তরের নগরবাসীর সাথে মেয়রের শুভেচ্ছা বিনিময়। দুপুরে খাবারের বিরতির পর বিকাল ৪ টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আবারো চলে শুভেচ্ছা বিনিময়। এভাবেই কেটে যায় তিনদিন। রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষ আবেগের জানান দেন। এ সময় মেয়রের বাসার সামনের সড়ক ছাড়াও পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মেয়র টিটুর প্রতি নগরবাসীর আস্থা এবং আবেগ আত্মার সম্পর্কের জানান দিয়েছে। মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোঃ ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে কর্মকর্তারা নবনির্বাচিত মেয়রের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ইকরামুল হক টিটু ময়মনসিংহ নগরবাসীর সেবায় জড়িয়ে আছেন দীর্ঘ ২৫ বছর। নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অক্লান্ত শ্রম দিচ্ছেন মানুষের সেবায়। চষে বেড়ান নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির কারণে নগরবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগদানের ক্ষেত্রেও তিনি আন্তরিক। যেকোনো শ্রেণী-পেশার নাগরিক খুব সহজেই সকাল, দুপুর ও রাত মেয়র টিটুর সাথে সরাসরি দেখা করতে পারেন। মুঠোফোন রিসিভ করার ক্ষেত্রেও তিনি আন্তরিক। কল রিসিভ করতে না পারলেও পরবর্তীতে কল ব্যাক করে নাগরিকদের সাথে কথা বলেন সকলের প্রিয়মুখ টিটু। গত ১৫ বছর ময়মনসিংহ নগরীতে দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। যা স্বাধীনতার পরের ৩৭ বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। করোনা মহামারীর সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে জীবন বাজি রেখে নগরবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ‘শীর্ষ জনপ্রতিনিধি’র উপাধি পেয়েছেন। যেক’জন জনপ্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর সু-নজরে আছেন তাদের মধ্যে ইকরামুল হক টিটু অন্যতম।

জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরবাসীর আস্থার প্রতীক ইকরামুল হক টিটুর ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে একজোট হয়ে মাঠে অবস্থান করেছিলেন বিপুল সমর্থক। টিটুকে সম্মানজনক ভোটে বিজয়ী করতে সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠ কাঁপিয়েছেন। একযোগে চলেছে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা। সকলের পছন্দের ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের পক্ষে শোডাউন হয়েছে প্রতিটি এলাকায়। ছোট-বড় মিছিল ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রকম্পিত হয়েছিলো ময়মনসিংহ নগরী। নির্লোভ, জনপ্রিয় ও হেভিওয়েট প্রার্থী ইকরামুল হক টিটুর ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজসহ বিশাল সমর্থক গোষ্ঠি। নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সকলের প্রিয়মুখ ইকরামুল হক টিটু। দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে নগরবাসীর স্বপ্ন পূরণ করেছেন। চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে ভোটাররা তাকেই বেছে নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র ২ নেতাকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে সকল রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ইকরামুল হক টিটু। রাজনীতিতে আরেকদফা নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। সুগম হয়েছে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টির পথ। সূত্র মতে, ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর শনিবার ছিলো দ্বিতীয় নির্বাচন। এর আগে ০৫-০৫-২০১৯ তারিখে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। টিটু ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিলুপ্ত ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। এর আগে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন। এছাড়া তিনি মসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ২ মেয়াদে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা ইকরামুল হক টিটু মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। টিটু ছাত্র জীবনেই নিজের জমানো টাকায় ব্যবসা শুরু করেন। সব সময় সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতে থাকেন। কোনো বিষয়েই তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের ব্যবসা ছেড়ে টিটু পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। এক পর্যায়ে জনসেবা করার জন্য জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ১৯৯৯ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভায় সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার নির্বাচিত হন।



  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর