, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

খাগডহর যুদ্ধে শহীদ আনোয়ারের বাড়িতে মেয়র ইকরামুল হক টিটু আবেগ্লাপুত স্ত্রী ফিরোজা খাতুন

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

খাগডহর যুদ্ধে শহীদ আনোয়ারের বাড়িতে মেয়র ইকরামুল হক টিটু আবেগ্লাপুত স্ত্রী ফিরোজা খাতুন

দীর্ঘ ৫৩ বছর পর এই প্রথম কোনো জনপ্রতিনিধি ময়মনসিংহের প্রথম প্রতিরোধ খাগডহর ইপিআর (বিজিবি) যুদ্ধের অন্যতম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের বাড়ি গেলেন। এ সময় আবেগ্লাপুত হয়ে পড়েন স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারসহ পরিবারের সদস্যরা। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরামুল হক টিটু গতকাল নগরীর নিজকল্পার বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবক এবং অন্যতম সংগঠক ও মানবিক মানুষ আলী ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পেশায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের গাড়ি চালক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ রাতে ঐতিহাসিক খাগডহর ইপিআর যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। ওই দিন তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্পে (বিজিবি) বাঙালিদের ওপর ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় পাকহানাদার বাহিনীর একটি বড় অংশ। বাঙালিদের ওপর আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠি, সোটা ও দেশীয় নানান ধরণের অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র পাকহানাদারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। অবরুদ্ধ পাকবাহিনীর সাথে বাঙালি ইপিআর সদস্য এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এই যুক্তে ১৩৮ জন পাকহানাদার নিহত এবং ৪ জন বাঙালি শহীদ হন। ৪ শহীদের মধ্যে একজন পার্শ্ববর্তী নিজকল্পা গ্রামের টগবগে আনোয়ার হোসেন। মাইকে ইপিআর ক্যাম্পে পাকহানাদারদের আক্রমণের খবর পেয়ে স্ত্রী ফিরোজা খাতুন এবং ২১ দিনের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারকে রেখে তিনি ইপিআর ক্যাম্পে ছুটে যান।


সূত্র জানায়, আনোয়ার হোসেন অনেকটা খালি হাতেই সশস্ত্র পাকবাহিনীর সাথে সংঘর্ষ করতে করতে খাগডহর ইপিআর ক্যাম্পে প্রবেশ করেন এবং পাকহানাদারদের একটি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন। ক্যাম্প থেকে অস্ত্র বোঝাই করে ওই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মাথায় পাকবাহিনীর বুলেটবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আনোয়ার হোসেন গাড়ির ভেতরেই শহীদ হন। সূত্র মতে, ওই রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবার পর ফিরোজা খাতুন আর স্বামীর মুখ দেখতে পাননি। রেখে যাওয়া ২১ দিনের সেই শিশুর বয়স এখন ৫৩ বছর ২১ দিন। স্বামীর স্মৃতি বুকে আগলে রেখে মেয়েকে নিয়ে পাড় করে দিয়েছেন সারা জীবন।
জানা যায়, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও কেউ শহীদ আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেননি। এখন পর্যন্ত তারা পাননি রাষ্ট্রিয় কোনো স্বীকৃতি এবং সুযোগ সুবিধা। সরকারি গেজেটে শহীদ এই মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকলেও তার বাবার নামের বানান ভুল থাকায় পরিবারের সদস্যরা কোনো ভাতা পাচ্ছেন না। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল তার বাড়িতে ছুটে যান। মেয়রের উপস্থিতিতে আশপাশের অনেক মানুষ ভিড় করেন। মেয়র টিটুকে কাছে পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফিরোজা খাতুন এবং তার মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার। মেয়র পরিবারের খোঁজ খবর নেন। তিনি নগদ অর্থসহ উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে সম্ভ্রাব্য সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।




  • সর্বশেষ - মহানগর