ময়মনসিংহ, , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

শেরপুরের সব ইটভাটাই অবৈধ!

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

শেরপুরের সব ইটভাটাই অবৈধ!

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শেরপুরে প্রতি বছরই গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটভাটা। এসব ইটভাটার একটিরও নেই বৈধ ও হালনাগাদ কাগজপত্র। কৃষিজমি নষ্ট করে, এমনকি ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে সেই মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। মাঝেমধ্যে ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এদের কার্যক্রম। তবে বায়ু ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ইটভাটা স্থাপনের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পরিত্যক্ত অনাবাদি জমি, নিচু জলাশয়ের ধারে, নদীর পাশে এবং কমপক্ষে চারদিকে এক কিলোমিটার জনশূন্য এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে শেরপুরের কোনো ইটভাটা মালিকই এসব শর্ত মানছেন না। জেলার বেশিরভাগ ইটভাটাই গড়ে উঠেছে আবাদি জমি ও লোকালয়ের মধ্যেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেরপুর পৌর শহরেই কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে একাধিক ইটভাটা। জেলার ৫৪টি ইটভাটার একটিরও নেই বৈধ ও হালনাগাদ কাগজপত্র। আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির ওপর স্থাপিত এসব ইটভাটার মাত্র ১৯টির ছাড়পত্র থাকলেও সবগুলোরই মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে।

Brick-(3).jpg

শেরপুরের নকলা উপজেলার গৌড়দ্বার ছাতুগাঁও এলাকায় নতুন নির্মাণাধীন ‘সেভেন স্টার ব্রিকস’। কাগজে-কলমে এই ইটভাটার মালিক জনৈক জসিম উদ্দিন নামের একজনকে দেখানো হলেও শেরপুরের নকলা পৌরমেয়র হাফিজুর রহমান লিটনের ছোটভাই সম্রাট গড়ে তুলছেন অনুমোদনহীন এই ইটভাটা। শুধু সেভেন স্টার ব্রিকস নয়, নকলা উপজেলায় এবছর কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে তাহের ব্রিকস, চমক ব্রিকস তিনটি নতুন ইটভাটা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেভেন স্টার ব্রিকসের মালিকপক্ষের সম্রাট বলেন, ‘শেরপুরের একটি ইটভাটারও অনুমোদন নাই। সবাই অবৈধভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করতেছে। সবাই যদি অবৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে, আমাদেরকেও এই সুবিধা দিতে হবে।’

তবে এসব ইটভাটা অবৈধ হলেও সবধরনের কাগজপত্র জমা দেয়ার কথা বলছেন মালিকপক্ষ। শ্রীবরদী উপজেলার রাজু ব্রিকসের মালিক রাজু মিয়া বলেন, ‘পরিবেশের ছাড়পত্রের জন্য আমাদের আবেদন জমা দেয়া আছে। নিয়ম মেনেই আমাদের অনুমোদন হবে আশা করি।’

Brick-(3).jpg

এদিকে অবৈধ এসব ইটভাটার কারণে হুমকির মুখে এখানকার কৃষিজমি। আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব জমির মাটি। এছাড়া ইটভাটার ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ স্থানীয়দের মধ্যে অন্যান্য রোগ বেড়েছে।

শেরপুর পৌর এলাকার ছমির মিয়া বলেন, ‘আমরা তো জানি না এসব ইটভাটার অনুমতি আছে কি-না। ধানি জমি ভাড়া নিয়েই এসব ইটভাটা তৈরি হচ্ছে। স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা আর বাড়িঘরের পাশে এসব ইটভাটা তৈরি কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’

মোবারকপুর এলাকার রাসেল মিয়া বলেন, ‘ধানি জমির ওপরের মাটি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এর কারণে আবাদ হুমকির মুখে। এখনই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব জানান, শেরপুরের বায়ু ও পরিবেশ দুষণমুক্ত রাখতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

  • সর্বশেষ - মহানগর