ময়মনসিংহ, , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

ইফতার সুখবর বয়ে আনে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ইফতার সুখবর বয়ে আনে

আজ সিয়াম সাধনার পঞ্চম দিন। আজ যথাসময়ে ইফতার করার বিষয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। আমরা রোজা রাখি আল্লাহর আদেশে। আবার তাঁর আদেশেই ভাঙি, ইফতার করি। এসবই ঘটে প্রেমময় প্রভুর সামনেই। তিনি দেখেন বান্দা কীভাবে সারাদিন উপোস থেকে, পানাহার না করে, স্ত্রী সম্ভোগের পথ না মাড়িয়ে সংযত থাকে, সংযম পালন করে। নির্দেশ পরিপালনে বান্দার এই অনুগত কর্মশীলনে সন্তুষ্ট হন মহান আল্লাহতায়ালা।

সিয়াম সাধনা যেমন পবিত্র একটি কাজ, সময়মতো ইফতার করাও একটি পুণ্যের আমল ও ইবাদত। তাই মোমিন রোজা রাখবে আর ইফতার বিলম্বে করবে তা কীভাবে হয়? এজন্যই হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ তত দিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যত দিন ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করে নেবে।’ (মুসলিম শরিফ) স্বেচ্ছায় কোনো কারণ ছাড়াই ইফতার বিলম্বিত করা ঠিক নয়। অযথা ইফতার বিলম্ব করা সুন্নত পরিপন্থি কাজ।

মৌলিকভাবে বিলম্বে ইফতার করলে ‘ইফতার কর্মসূচি’কে তুচ্ছ মনে করা হয়। বাস্তবে ইফতার কার্যসূচি ছোট কোনো কাজ নয়। ইসলামের দর্শনে ইফতারকে অনেক বড় উচ্চতার আসন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহর একটি বাণী বিবৃত হয়েছে, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে অধিকতর প্রিয় তারাই, যারা সময়মতো ইফতার করে।’ (তিরমিজি ১ : ১৫০)

মানুষের ব্যক্তিজীবনেও অলসতা পরিহারযোগ্য, অলস চূড়ান্ত সফলতা লাভে ধন্য হতে পারে না। বিজয়ী হতে পারে না। সময় থাকতেই কাজ করে নিতে হয়। ইফতার নিয়ে অপেক্ষা করাও সওয়াব। আর এ সময় তো আল্লাহতায়ালা দোয়া কবুল করেন। বান্দার উপোস জিহ্বার আকুতি আল্লাহর খুবই পছন্দ। আবু দাউদের এক হাদিসে নবীজি মুসলমানদের যথাসময়ে ইফতার করাকে দীনকে বিজয়ী করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিলম্বে ইফতার করা নাজায়েজ নয়। তবে মাকরুহ। অপছন্দনীয়।

ইফতার কর্মটি কোনো ভোজনসভা নয়। বরং এটি একটি বড় ইবাদত। সামনে খাবার হাজির, অথচ বান্দা খাচ্ছে না। কারণ, তখনো ইফতারের সময় হয়নি। রোজায় বান্দা যেন পরতে পরতে আল্লাহর হুকুমই পালন করে থাকে। এ সময় যে আল্লাহ বান্দার দোয়া পরম মমতার সঙ্গে কবুল করেন। হজরত আবু হুরাইরা (রা.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবীজি বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহতায়ালা ফিরিয়ে দেন না। এক. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর দোয়া। দুই. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া এবং তিন. মাজলুমের দোয়া। (বায়হাকি) আসসাইমু হাত্তা ইউতিরা বলে আল্লাহর রাসুল (সা.) ইফতারের সময়টাকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ইফতার নিজে খেলে যেমন পুণ্য পাওয়া যায়, অন্যকে খাওয়ালেও অনেক সওয়াব। অন্যকে ইফতার করানোর তাৎপর্য সম্পর্কে নবীজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। রোজাদার ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। (বায়হাকি)

ইফতার বান্দার জন্য সুখবর বয়ে আনে। সারা দিনের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার যেমন বড় সুযোগ, তেমনি আখিরাত অর্জনের ক্ষেত্রেও এই ইফতার বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। অন্যকে ইফতার করালে নিজে তো পুণ্যের অধিকারী হয়, রোজাদারও সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয় না। আল্লাহতায়ালা আমাদের যথাসময়ে ইফতার করার তাওফিক দিন। আমিন।

  • সর্বশেষ - অতিথি কলাম