ময়মনসিংহ, , ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

ফের চট্টগ্রামে রেড-ইয়োলো জোন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ফের চট্টগ্রামে রেড-ইয়োলো জোন

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চট্টগ্রাম নগরে এলাকাভিত্তিক রেড, ইয়োলো ও গ্রিণ জোন ঘোষণা করে লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি)। জানা গেছে, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংক্রমণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছে সিএমপি।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির উপ কমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক।

জানা গেছে, চকবাজারের জয়নগর এক নম্বর গলি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্টাফ কোয়ার্টার, খুলশী থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এসবি নগর, ওয়ার্লেস, কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা, ১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ডে টাংকির পাহাড়, বাঘঘোনা, হাইলেভেল রোডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে রেড জোন ঘোষণা করে ব্যানার টাঙিয়ে দেয় পুলিশ। এসব এলাকায় পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পশ্চিম মাদারবাড়ি, পূর্ব মাদারবাড়ি, গোসাইলডাঙ্গা, ফিরিঙ্গিবাজার, পাথরঘাটা, দক্ষিণ বাকলিয়া, বক্সিরহাট, দক্ষিণ পাহাড়তলী, উত্তর পতেঙ্গা, দক্ষিণ পতেঙ্গাসহ নগরীর ১২টি ওয়ার্ড ইয়োলো জোন আছে। বাকি ২৯ ওয়ার্ড রেড জোনে। নগরে এলাকাভিত্তিক রেড ও ইয়োলো জোন ঘোষণা করার পর লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে নামছে পুলিশ।

আরও পড়ুন : লোহাগাড়ায় আগুনে পুড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ বসতঘর

এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুব জরুরি ছাড়া কাউকে বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না পুলিশ। সব ধরণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হতেও অনুমতি লাগবে পুলিশের। সকলকে আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বাসায় থাকতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে সোমবার সকাল থেকে মাইকিংও করা হয়েছে।

সিএমপির উপ কমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক বলেন, রেড জোনের বাসিন্দরা অতিজরুরী প্রয়োজন ছাড়া এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রয়োজন হলে, পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় ৪৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে নগরে ৩৩৮ জন এবং উপজেলায় মারা গেছেন ১২১ জন। এ পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালীতে ৩৪ জন, চান্দগাঁওয়ে ২৫ জন, পাঁচলাইশে ২৪ জন, চকবাজারে ১৮ জন, খুলশীতে ১৭ জন, বন্দর এলাকায় ১০ জন, ডবলমুরিংয়ে ৬ জন, বাকলিয়ায় ৭ জন, বায়েজিদে ৯ জন, আকবর শাহ এলাকায় ১১ জন, পতেঙ্গায় ৬ জন, সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় ২ জন, মোহরায় ৩ জন, লালখান বাজারে ২ জন, মাদারবাড়ীতে ৪ জন, কদমতলীতে একজন, আগ্রাবাদ এলাকায় ১২ জন, পাহাড়তলীতে ১৪ জন, ইপিজেড এলাকায় একজন, সদরঘাটে ৬ জন মারা গেছেন।

এছাড়া এনায়েত বাজারে ২ জন, দামপাড়ায় ১২ জন, ঈদগাঁয়ে ৩ জন, বউবাজার এলাকায় একজন, মোগলটুলীতে একজন, মুরাদপুরে একজন, রাহাত্তারপুল এলাকায় ৪ জন, ফিরোজশাহ কলোনিতে ৩ জন, আসকারদিঘি পাড় এলাকায় ২ জন, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে ৩ জন, কাট্টলীত ৩ জন, ষোলশহর ২ নং গেট এলাকায় ২ জন, বিশ্ব কলোনিতে একজন, দেওয়ানবাজারে একজন, বড়পোলে একজন, মনসুরাবাদে একজন, রেয়াজউদ্দিন বাজারে ২ জন, হিলভিউতে একজন, চন্দনপুরায় একজন, দেওয়ানহাটে ২ জন, ব্যাটারি গলিতে একজন, কালুরঘাটে একজন এবং কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় একজন মারা গেছেন। প্রতিবেদনে নগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের এলাকা হিসেবে ৫৫টি স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হালিশহরে সর্বোচ্চ ৩৫ জন রয়েছেন।

২০২০ সালের ০২ জুন নগরের ১২ থানাকে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট বা রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ এর উপরে শনাক্ত হওয়ায় এসব থানাকে ওইসময় রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। প্রথম দিকে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলীতে রেড জোনে কড়াকড়ি আরোপ করলেও অন্যগুলোতে তা করতে হয়নি।

গেলো বছরের ২ জুন নগরের ১২ থানাকে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট বা রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ এর উপরে শনাক্ত হওয়ায় এসব থানাকে ওইসময় রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। প্রথম দিকে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলীতে রেড জোনে কড়াকড়ি আরোপ করলেও অন্যগুলোতে তা করতে হয়নি।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর