, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

কাদের মির্জার ‘হুমকিতে’ এক দিনে ২৮ জনের জিডির আবেদন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

কাদের মির্জার ‘হুমকিতে’ এক দিনে ২৮ জনের জিডির আবেদন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে এক দিনে একসঙ্গে ২৮টি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) আবেদন জমা পড়েছে। আজ শনিবার সকালে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ওরফে বাদলসহ ২৮ জন পৃথক পৃথকভাবে ওই জিডির আবেদন জমা দিয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, জিডির আবেদনে আবেদনকারী ব্যক্তিরা গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকের দেওয়া কাদের মির্জার ‘হত্যার বদলে হত্যা’র, কোম্পানীগঞ্জে ‘রক্তের হোলি খেলার’ হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। উল্লিখিত হুমকিতে আবেদনকারী ব্যক্তিরা প্রত্যেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

জিডির আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, কাদের মির্জার হত্যার বদলে হত্যা ও রক্তের হোলি খেলার হুমকিতে তিনিসহ দলের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অনেকেই থানায় জিডি করেছেন। আরও অনেকে জিডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক আজ রাত ৯টার দিকে বলেন, কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ২৮টি জিডির আবেদন আজ এক দিনেই থানায় জমা পড়েছে। জিডিতে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বেলা একটায় ফেসবুক লাইভে কাদের মির্জার একটি বক্তব্যের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ওসি মীর জাহেদুল হক বলেন, সবগুলো আবেদনের বিষয়বস্তু একই, বিবাদীও একই ব্যক্তি। তাই সবগুলো আবেদনকে একটি জিডির নম্বর দিয়ে রেকর্ড করা হবে। এরপর এ বিষয়ে তদন্তের ব্যবস্থাসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে সরকার, নির্বাচন, দলের নেতা ও সাংসদদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। সেই ‘সত্যবচনের’ রেশ ধরে ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৫) নিহত হন। এরপর গত ৯ মার্চ রাতে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে পুনরায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলা উদ্দিন (৩২) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মারা যান। সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল কাদের মির্জার অনুসারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী।

সূত্র : নতুন সময়
  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর