, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

সামাজিক ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে পৌনে ৮২ লাখ করার চিন্তা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সামাজিক ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে পৌনে ৮২ লাখ করার চিন্তা

উপার্জনে অক্ষম জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তায় বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৮১ লাখ ৭৫ হাজার করার পরিকল্পনা করছে সরকার। মোবাইল আর্থিক পরিষেবার মাধ্যমে তাদের কাছে এ ভাতা পৌঁছে দেওয়া হবে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। 


অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন সূত্র বলছে, সরকার নতুন অর্থবছরে ৮১.৭৫ লাখ প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের মধ্যে ভাতা বিতরণে ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে; যেখানে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এর মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৪৯ লাখ দরিদ্রকে মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই খাতে ২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।


সূত্র আরও বলছে, সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মোবাইল সার্ভিস নগদ ও বিকাশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। সভার লক্ষ্য ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যে মোবাইল আর্থিক পরিষেবা ব্যবহার করে শতভাগ ভাতা বিতরণ করা। 


মোট ৯টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মধ্যে বর্তমানে তিনটি কর্মসূচি ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেমের আওতায় রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবার এবং মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানী ও ভাতা পেয়ে থাকেন। সভায় আট বিভাগের ১৬২টি উপজেলায় উপকারভোগীদের কাছে মোবাইল আর্থিক পরিষেবা পৌঁছাতে করণীয় সকল প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

এর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধদের মধ্যে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা বিতরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 


এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় জরুরি তহবিল বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা জাল সম্প্রসারণ ও পরবর্তী বছরের খাদ্য সংকট মেটাতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যথাসময়ে অর্থ ছাড় ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছানো।


দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম বা উপার্জনে অক্ষম জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন  করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন নারীসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।


অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৪ লাখ ৪ হাজার জনকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হয়। তখন প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। ওই অর্থবছরে এই খাতে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরের বছর ভাতাভোগীর সংখ্যা বেড়ে হয় ৪ লাখ ১৭ হাজার। এজন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫০ কোটি টাকা।


২০০০-০১ অর্থবছরে ভাতা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ১১ লাখ ৮৩ হাজার বাড়িয়ে ১৬ লাখ করা হয়। তখন ৩৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।


২০০৯-১০ অর্থবছরে ভাতা আরও ১০০ টাকা বেড়ে হয় ৩০০ টাকা। ওই বছর ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় সাড়ে ২২ লাখ।


এরপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভাতা বেড়ে হয় ৫০০ টাকা। এই অর্থবছরে ভাতাভোগীর সংখ্যা হয় ৪০ লাখ। বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। পরের বছর (২০১৯-২০) ৪৪ লাখ মানুষকে ভাতা দেওয়া হয়। এদের ভাতা দিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য