, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে শুধুই শূন্যতা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে শুধুই শূন্যতা

করোনাভাইরাসের কারণে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন করবে দেশের মুসলমানরা। এবার ঈদগাহের পরিবর্তে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। ফলে গতবারের মতো এবারও রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এখন এই ঈদগাহ ময়দান শুধুই শূন্যতা। নেই কোনো কর্মযজ্ঞ।

অথচ রমজানের শুরু থেকেই জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে চলত প্রস্তুতির কাজ। গাছে রং লাগানো, মাঠে কোথায় সমতল থাকলে সেটি সমান করা, ঘাস কাটা, তেরপালের ছামিয়া টানানোর জন্য বাঁশের খুঁটি লাগানো ইত্যাদি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তো ছিলই। কিন্তু এখন এসব আর কিছুই নেই।

বুধবার (১২ মে) সরজমিনে দেখা যায়, মাঠের পশ্চিম পাশে ভবঘুরেদের রাত যাপনের বিছানা। পূর্ব দিকে মাঠের মূল গেটের যে কিনারায় ওযুখানা সেখানে ঘুমাচ্ছেন একজন, আর একজন পায়চারি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেট যেখানে কোনো প্রাণী থাকার কথা না, সেখানে এখন রিকশা পার্কিং করা।

jagonews24

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী মানুষ। কিন্তু এবার সেখানে উপস্থিত হচ্ছেন না কেউ। তাই গতবারের মত এবারও কেবলই শুনশান নীরবতা জাতীয় ঈদগাহ ময়দান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু নাসের জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার ঘোষিত লকডাউনে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সাজ-সজ্জার যে কাজ সিটি কর্পোরেশন করে থাকে তা এবার হচ্ছে না। কারণ করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে। গত বছরও ঠিক একই কারণে আমরা জাতীয় ঈদগাহে নামাজের ব্যবস্থা করতে পারিনি।’

শুধু জাতীয় ঈদগাহ নয়, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় হচ্ছে না জামাত। এটা ছিল শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের ১৯৪তম জামাত। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।

শুক্রবার দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর :

বুধবার (১২ মে) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার (১৪ মে) মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বুধবার (১২ মে) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এ কথা জানায়।

jagonews24

বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত :

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী।

সকাল ৯টার তৃতীয় জামাতে ইমাম হবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক।

চতুর্থ জামাত হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমাম থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান।

jagonews24

বিভিন্ন জেলায় ঈদের জামাত :

চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে। কিন্তু এবার মাঠে ঈদের জামাতের আয়োজন রাখা হচ্ছে না। মুসল্লিরা যেন যার যার এলাকার মসজিদে নামাজ আদায় করেন সেই বিষয়টি মনিটর করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রাজশাহীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় হজরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। অন্যদিকে রংপুরে ঈদের প্রধান জামাত হয় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানেও হবে না এবার ঈদ জামাত।

খুলনায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় টাউন জামে মসজিদ ময়দানে। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েট, মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ঈদগাহে জামাত হয়ে থাকে। তবে এবার এসব জায়গায় হচ্ছে না ঈদের জামাত।

সিলেটে প্রতিবারই ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে। কিন্তু সেখানে হচ্ছে না ঈদের জামাত। তবে গতবারের মতো এবারও হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কয়েক দফা শর্ত :

করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদের জামাতের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় কয়েক দফা শর্ত দিয়েছে। শর্তে বলা হয়েছে- নামাজের সময় মসজিদে গালিচা বিছানো যাবে না, নামাজের আগে পুরো মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে মুসল্লিদের, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, মসজিদে প্রবেশের আগে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করতে হবে, মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না, নামাজের কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

এছাড়া ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্যও অনুরোধ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর