, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

সাজানো-গোছানো ঘর পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের ৪০ জন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সাজানো-গোছানো ঘর পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের ৪০ জন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহায়তা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ গুচ্ছগ্রাম। সোমবার (৭ জুন) এই ঘরে পা রাখলেন তৃতীয় লিঙ্গের ৪০ জন।

এই আবাসন প্রকল্পে ৪০ জনের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন ঘরের চাবি। জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব নিবন্ধিত ৪০ জন তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে তাদের ঘরের চাবি তুলে দেন।

সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর মৌজাধীন আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় ২ একর সরকারি খাসজমিতে নির্মিত হয়েছে এই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’।

বাসস্থান পেয়ে এখন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা বলছেন, ভিক্ষাবৃত্তি ও চাঁদাবাজি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান তারা। কম্পিউটার, সেলাই, পার্লারের কাজসহ নানা প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবিকা উপার্জন করতে চান। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, দুই একর জায়গায় ৬৯ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ আবাসন প্রকল্পে বসবাসকারী তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য থাকছে প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর একটি পুকুর। শাক-সবজি ও ফসল আবাদের জন্য রাখা হয়েছে খোলা জায়গা। আত্মকর্ম প্রশিক্ষণের জন্য নির্মিত হচ্ছে একটি মাল্টিপারপাস কক্ষ।

গুচ্ছগ্রামের সঙ্গেই রয়েছে ৮ একরের বড় একটি সরকারি খাস বিল। নির্মিত প্রতিটি ঘরের সঙ্গেই রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা।

জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এখানকার তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য হাঁড়ি-পাতিল, থাকার জন্য ২০টি বিছানা ও বিছানার চাদরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করায় জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের বিষয়গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে আমাদের বাসস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখন আমাদের কর্মসংস্থানের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

নিশি সরকার বলেন, ‘আমরা ভিক্ষাবৃত্তি চাই না, চাঁদাবাজি করে জীবন চালাতে চাই না। আমরা মানুষের মতো বাঁচতে চাই। কর্ম করে খেতে চাই।’

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহায়তায় ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা এই কাজটি শেষ করতে পেরে আনন্দিত। আমরা চাই তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলো আমাদের সঙ্গে বাস করে আমাদের জনশক্তিতে রূপান্তরিত হোক।

তিনি বলেন, কেবল জমিসহ ঘরই নয়, ওই গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে সমাজের অবহেলিত ও অপাঙক্তেয় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জীবনমান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে। যাতে তারাও সমাজের মূলস্রোতে একীভূত হতে পারেন।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলোরও আছে। তারা আমাদেরই স্বজন। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে আন্তরিক থেকে আমাদের কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের বাসস্থানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টাও আমরা করছি। আশা করি, তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে পারব।

  • সর্বশেষ - মহানগর