, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীতে যানজটে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

রাজধানীতে যানজটে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি

দুপুর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরেছে রাজধানীতে। সকালে কিছু সময়ের জন্য দেখা মিলেছিল রোদের। তারপর মেঘে ঢাকা পড়ে সূর্য। দুপুর ১২টার পর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আকাশ কালো হয়ে আসে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জমে পানি, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। দুপুরের পর বৃষ্টি না হলেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজটের কারণে ঘরমুখী মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে।

বুধবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর কিছু কিছু সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। আবার কোনো কোনো সড়কে বাসই ছিল না। একদিকে যানজট, অন্যদিকে গণপরিবহন সঙ্কটে নাকাল হতে হয় ঘরমুখী মানুষকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মাথার ওপর ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি।

আটকে পড়া অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারছিলেন না। সব ধরনের অফিস-আদালত খোলা থাকা সত্ত্বেও গণপরিবহনগুলোতে অর্ধেক যাত্রী নেয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকায় কর্মমুখী মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিকেলের পর সড়কে বেশিরভাগ বাসের দরজাই ছিল বন্ধ, মাঝপথে যাত্রী তুলছিল না কোনো বাস। ফলে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। বাধ্য হয়েই কেউ রিকশায় কেউবা হেঁটেই বাসার দিকে রওনা হন।

সরেজমিনে ঘুরে রাজধানীর আসাদগেট, ধানমন্ডি-২৭, ধানমন্ডি-৩২, পান্থপথ সিগন্যাল, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, মালিবাগ, মৌচাক, তেজগাঁও, কাকরাইল, শান্তিনগর, পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায় তীব্র থেকে তীব্রতর যানজটের দেখা মিলেছে।

গণপরিবহনের সঙ্কট

রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে গাবতলী যাওয়ার জন্য গণপরিবহনে উঠতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন আফজাল আহমেদ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘দুই সিটে একজন করে যাত্রী নিয়ে পূর্ণ অবস্থায় গেট বন্ধ রেখে বাসগুলো আসছে। তাই কোনো বাসেই উঠতে পারছি না। এদিকে রাস্তায় একধরনের যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শত শত মানুষ বৃষ্টিতে ভিজছেন, কিন্তু বাসে ওঠা যাচ্ছে না।’

শাহবাগ মোড় থেকে মিরপুর-১০ নম্বরের বাসে ওঠার চেষ্টা করছিলেন আশিক ইকবাল নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘কেউ বাসে উঠতে পারছেন না। কারণ সব বাসের গেট বন্ধ, মাঝপথে কোনো যাত্রী তারা তুলছে না। এ অবস্থায় যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।’

jagonews24

এদিকে, রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাড্ডা পর্যন্ত লম্বা যানজট দেখা গেছে। দীর্ঘ যানজট ছিল মহাখালী থেকে বনানীর সড়কেও। আবার মহাখালী ফ্লাইওভার পার হয়ে জাহাঙ্গীর গেট থেকে বিজয় সরণি সিগন্যাল পর্যন্ত ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। মগবাজার, উত্তরা, মিরপুরসহ বেশকিছু এলাকার রাস্তায় ছিল না পর্যাপ্ত গণপরিবহন।

সিএনজি অটোরিকশা-রাইড শেয়ারিংয়ে অতিরিক্ত ভাড়া

গণপরিবহন সঙ্কটের সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও রাইড শেয়ারিংয়ের বাইকগুলোকে বেশি ভাড়া হাঁকতে দেখা গেছে।

বাড্ডা লিংক রোড থেকে মুগদাগামী এক সংবাদকর্মী বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু সড়কে খুব বেশি সিএনজি নেই। যেগুলো আসছে, সেগুলো অনেক বেশি ভাড়া চাচ্ছে।’

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা

এদিকে, বুধবার সকাল ৯টা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের সবগুলো বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে আজ দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। দেশের বাকি অংশে মৌসুমি বায়ু আরও অগ্রসর হওয়ার জন্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। আগামী তিন দিনে উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যানজটের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা যাত্রীদের।

  • সর্বশেষ - জাতীয়