, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনারে নারীদের চায় না সংসদীয় কমিটি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনারে নারীদের চায় না সংসদীয় কমিটি

মৃত্যুর পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেয়ার সময় নারীদের চায় না সংসদীয় কমিটি। এজন্য যেসব এলাকায় নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রয়েছেন সেখানে বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

রোববার (১৩ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি গার্ড অব অনার দিনের বেলায় আয়োজন করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়া শিশুপার্কের স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সুপারিশ করে কমিটি।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, নারীরা তো জানাজায় থাকতে পারেন না। তাই নারী ইউএনও গার্ড অব অনার দিতে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। সেজন্য এ বিষয়ে বৈঠকে একটি প্রস্তাব এসেছে। নারীর বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছি।

কমিটির সভাপতি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সামনের যে জায়গাটিতে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল সেখানে জিয়াউর রহমান শিশুপার্ক করা হয়েছে। আমরা সেখানে আত্মসমর্পণের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের সুপারিশ করেছি। আমরা বলেছি, সেখানে যে কক্ষটিকে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে সেটা সংরক্ষিত থাকবে কিন্তু শিশুপার্কের স্থলে স্মৃতিস্তম্ভ হবে।

জানা যায়, বৈঠকে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান নির্ধারণের লক্ষ্যে সভাপতিকে আহ্বায়ক করে একটি সংসদীয় উপ-কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ড’র তহবিল গঠনে কোন কোন উৎসকে প্রতিষ্ঠার সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল তার বিস্তারিত আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া নির্ধারিত হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করাসহ ওষুধ খরচ বাবদ নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীতকরণ এবং বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলোতে শতভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করার বিষয়ে সংশোধিত নীতিমালাটি আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা সংগ্রহ ও চিহ্নিত রাজাকারের পরবর্তী প্রজন্মকে সরকারি চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণের সুপারিশ করা হয়।

  • সর্বশেষ - জাতীয়