, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ অনলাইন সংস্করণ

কে আসল হাজীর বিরিয়ানি?

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

কে আসল হাজীর বিরিয়ানি?

প্রতি বছর আয়োজিত বাণিজ্য মেলার একটা অন্যতম অংশ ফুড কোর্ট। আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য হরেক রকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে স্টলগুলো। তবে এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত হচ্ছে ‘হাজীর বিরিয়ানি’।

প্রতি বছরই বাণিজ্য মেলায় বেশ কয়েকটি হাজীর বিরিয়ানি নামে স্টল বসানো হয়। সবাই দাবি করে থাকেন, তারটাই আসল পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানি। কিন্তু এতোগুলো হাজীর বিরিয়ানির ভিড়ে আসল হাজীর বিরিয়ানি কে?

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে বাণিজ্য মেলা ফুড স্টল এরিয়ায় গিয়ে প্রথমেই চোখে পড়ে বিশাল ব্যানারে বেশ কয়েকটি হাজীর বিরিয়ানির দোকান। তাদের কারোর নাম ‘পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানি’, কেউ ‘হাজীর বিরিয়ানি’,আবার কেউ শুধু হাজী বিরিয়ানি।

ফুড কোর্ট প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতেই কর্মীরা শুরু করে হাঁকডাক। তাদের সবার বক্তব্য এক, এটাই পুরান ঢাকার আসল হাজীর বিরিয়ানি। ক্রেতারাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন যে কোন স্টলে গিয়ে বসবেন।

স্টলগুলোতে মূলত কাচ্চি বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও আর তেহারি বিক্রি করা হয়। এছাড়াও চিকেন আইটেম, নান রুটি, গ্রিল, পরোটা, ফুচকা, চটপটি ইত্যাদি খাবারও বিক্রি হয়ে থাকে।

সব দোকানেই গরুর কাচ্চি বিরিয়ানি ২৫০ টাকা, খাসির কাচ্চি ৩০০ টাকা। চিকেন বিরিয়ানিও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

কথা হয় ‘হাজী বিরিয়ানি’র বিক্রেতা মানিক মিয়ার সঙ্গে। ঢাকাপোস্টকে তিনি বলেন, ‘এটাই আসল হাজীর বিরিয়ানি। খেতে চাইলে বসে পড়েন।’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

পাশেই ছিলো ‘হাজীর বিরিয়ানি ও শাহী কস্তুরি কাবাব’। তাদের বক্তব্যও প্রায় একইরকম। এখানে সব হাজীই অরজিনাল।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রয়কর্মী জানান, ‘আসলে এখানকার সবগুলো হাজীর বিরিয়ানিই নকল। কোনোটাই নাজিরাবাজারের আসল হাজীর বিরিয়ানি নয়।’

ক্রেতারাও জানান একই কথা। মেলায় আগত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ফাইজুর রহমান বলেন, ‘নাজিরাবাজারের হাজীর বিরিয়ানি যারা খেয়েছে তারা সবাই জানে সে বিরিয়ানির স্বাদ কেমন। এখানকার কোনো দোকানই আসল হাজীর বিরিয়ানি না।’

আরেক ক্রেতা আফতাব জামান বলেন, ‘এরা শুধু নামের জন্যই হাজী বিরিয়ানি দিয়েছে। আসল বিরিয়ানির সাথে এ বিরিয়ানির কোনো মিল নেই।’

এটা নাজিরাবাজারের অরিজিনাল হাজীর বিরিয়ানি কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ‘পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি’-র মালিক বলেন, শুধুমাত্র নামের খ্যাতির জন্যই দোকানের নাম হাজী বিরিয়ানি রাখা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই।

আসল হাজী বিরিয়ানি নিয়ে কিছু তথ্য

পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারে ১৯৩৯ সালে হাজী বিরিয়ানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হাজী মোহাম্মদ হোসেন। বর্তমানে তার তৃতীয় প্রজন্ম এ ব্যবসা করছে।

নাজিরাবাজার ছাড়াও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেচারাম দেউরীতে হাজীর বিরিয়ানির আরেকটি শাখা খোলা হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য,আপ্যায়নের পরিমাণ বাড়াতেই দ্বিতীয় শাখাটি খোলা। তবে এ দুইটি শাখা ছাড়া হাজীর বিরিয়ানির আর কোনো শাখা নেই। এছাড়া বাণিজ্য মেলায় তারা কোনো স্টলও গ্রহণ করেনি।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর