ময়মনসিংহ, , ১৩ কার্তিক ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

গ্রামোন্নয়নে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে পর্যটন

  ভ্রমন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

গ্রামোন্নয়নে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে পর্যটন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে পর্যটন সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনলাইন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সারাবিশ্বে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা গ্রামোন্নয়নে ইতোমধ্যে অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

‘তার উদ্যোগের ফলেই এখন গ্রামে শহরের সমস্ত নাগরিক সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে। আমাদের প্রতিটি গ্রামে এখন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, এলপি গ্যাস ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আর্থিক সক্ষমতার উন্নয়নের কারণে গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব হয়েছে।’

গ্রামীণ পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জন্য এই সুবিধাগুলো আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে গ্রামীণ পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। গ্রামীণ জীবনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ পর্যটনের উন্নয়নে কমিউনিটি বেইজড পর্যটন প্রসারের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক জনগণকে পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত করতে এবং পর্যটনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি।

বাংলাদেশের পর্যটন পণ্যের বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনা অনেক উল্লেখ করে মাহবুব আলী বলেন, বাংলাদেশের সৌন্দর্যের আধার গ্রামাঞ্চলেই আমাদের অধিকাংশ পর্যটন আকর্ষণ অবস্থিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের এই সৌন্দর্যকে পৃথিবীর কাছে তুলে ধরার জন্যই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড গঠন করেন।

‘এখন সময় এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাস্তবতায় রূপ দেয়ার। আমাদের পর্যটন পণ্যগুলো উপযুক্ত ব্র্যান্ডিং করে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে পর্যটন যাতে সহায়ক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে’- বলেন মাহবুব আলী।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ হলেও আমরা আমাদের পর্যটন পণ্যকে এখনো বিশ্ববাসীর সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারিনি। যার কারণে জিডিপিতে আমাদের পর্যটন শিল্পের অবদান এখনো পর্যন্ত কম রয়েছে।

‘তবে পর্যটনের উন্নয়নে আমরা এখন আন্তরিকভাবে কাজ শুরু করেছি। পর্যটনশিল্পের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করার জন্য চেষ্টা করছি। দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য নানাবিধ সুবিধা প্রবর্তনের কাজ করছি’- যোগ করেন মহিবুল হক।

  • সর্বশেষ - ভ্রমণ