, ২ কার্তিক ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

ঈদের দিনে কেমন খাবার খাওয়া উচিত

  হেলথ ডেস্ক

  প্রকাশ : 

ঈদের দিনে কেমন খাবার খাওয়া উচিত
উম্মে সালমা তামান্না

দীর্ঘ এক মাস পবিত্র সিয়াম সাধনার পর খুশির ঈদ চলে এসেছে। ঈদ মানেই আনন্দ। ধনী থেকে গরীব, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মনেই ঈদ নিয়ে থাকে নানা পরিকল্পনা। বাহারি পোশাকে নিজেকে সুসজ্জিত করার পাশাপাশি ঈদ উৎসবে মুখরোচক খাবার যেন না হলেই নয়। ঈদের দিন প্রায় সবার বাসায়ই আয়োজন হয় মজাদার সব খাবার। যার মধ্যে মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন থাকে, তেমনি ঝাল, তেল ও মশলায় রান্না বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার ও প্রাধান্য পায়। 

মিষ্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে পায়েস, জর্দা, সেমাই ও দই তো থাকেই। অন্যদিকে ঈদের দিন পোলাও, মাংস বা বিরিয়ানি না হলে যেন ঈদ জমেই না। নিজেদের বাসায়ই শুধু নয়, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং বন্ধুমহলের সবার বাসায়ই থাকে মজাদার ঐতিহ্যবাহী সব খাবারের আয়োজন। 

আর তাই নিজের বাসায় এতো সব ভারি সুস্বাদু খাবার খাওয়ার পাশাপাশি কারো বাসায় বেড়াতে গেলেও ঈদের সারাটা দিন ভারি খাবারই খাওয়া হয়। পুরো একটা মাস আমরা যখন না খেয়ে সংযম করি, আমাদের পাকস্থলী একটা নির্দিষ্ট সময়ে স্বল্প পরিমাণ খাবার খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় সেখানে হঠাৎ করেই যদি তৈলাক্ত, মশলাযুক্ত এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার দিনভর খাওয়া হয় তখন তা আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ করে পাকস্থলীর উপর ভীষন খারাপ প্রভাব ফেলে। 

দেখা যায় পেট ফাপা, পেট ফোলা, আ্যসিডিটির সমস্যা, বদহজম ও ডায়রিয়া হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। একসাথে বেশি খাবার খাওয়ার ফলে পেটে ভরা ভরা ভাব, অস্বস্তি লাগা, বারবার ঢেকুর ওঠা ও বুকে ব্যাথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যদিও এক বা দুইদিন ভারি খাবার খেলে তেমন কিছু হয় না তবুও খেতে হবে রয়ে সয়ে। কারণ দীর্ঘ এক মাস আমরা অনেক কম খাবার খেয়েছি এবং দিনের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সময় না খেয়ে থাকতে হতো। আর তাই ঈদের দিনের খাবারের উপরও নজর দিতে হবে। 

কি খাবার খাচ্ছি আমরা, কতটুকু পরিমাণে খাচ্ছি তা মাথায় রেখে সঠিক নিয়মে খেলে ঈদের আনন্দ সহজেই পুরোপুরিভাবে উপভোগ করা যায়। জেনে নিন ঈদের দিন কেমন খাবার খাবেন :

ঈদের দিন সকালের মেন্যু :
ঈদের দিন সকালের খাবার হালকা হতে পারে। সাধারণত যেসব খাবার অল্প একটু খেলেও ক্যালরি বেশি পাওয়া যায় এমন খাবার গ্রহণের পরিমাণই বেশি থাকে ঈদের দিন। পায়েস বা ফিরনি, লাচ্ছা সেমাই, সেমাইয়ের জর্দা ও পুডিং খাওয়া যেতে পারে মিষ্টি জাতীয় খাবার হিসেবে। সেক্ষেত্রে চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করা ভালো। সবজি, চিকেন বা চিংড়ি দিয়ে নুডলস খাওয়া যেতে পারে ঝাল খাবার হিসেবে। বিভিন্ন প্রকার ফল, ফলের তৈরি শরবত ও লাচ্ছি খেতে পারেন। এতে ভিটামিনস ও মিনারেলস এর চাহিদা পূরনের পাশাপাশি পানির চাহিদাও পূরণ হবে। যেহেতু গরমকাল তাই পানিশূন্যতা যাতে না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত পানি, শরবত পান করতে ভুলবেন না।

ঈদের দিন দুপুরের মেন্যু : 
দুপুরবেলার খাবারটা সবাই ভারি খাবার গ্রহণ করে। এসময় কার্বোহাইড্রেট হিসেবে পোলাও বা খিচুড়ি খেতেই অনেকে পছন্দ করে। পোলাও বা খিচুড়ির সাথে চাইনিজ স্টাইলে সবজি রান্না করে খেতে পারেন। বিরিয়ানিও অনেকে খেতে খুব পছন্দ করে। সেক্ষেত্রে বিরিয়ানির পাশাপাশি অন্য ভাজা ভুনা খাবার খাওয়া যাবে না। প্রোটিন হিসেবে মাংস বা মাছের গ্রিল, কাবার, ফ্রাই, ভুনা এর মধ্যে গ্রিল বা শিক কাবাব করে খাওয়াই বেটার। এতে তেল কম খাওয়া হয়। মাছ এবং মাংসের মধ্যে তুলনা করলে মাছ খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। মাছে উপকারি ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। মাছের কাটলেট, কাবাব, কোরমা করে খাওয়া যেতে পারে। খাবারের মেন্যুতে অবশ্যই গ্রিন সালাদ, দই দিয়ে সালাদ, টমেটো চাটনি রাখতে হবে। এতে ভিটামিনস ও মিনারেলস এর চাহিদা পূরণ করবে। 

ঈদের দিন রাতের মেন্যু :
রাতের খাবার যত হালকা করা যায় ততই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কারণ সারাদিন নিজের বাসায় এবং আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবার বাসায় বেড়াতে গেলে ভারি তৈলাক্ত, মশলাদার মুখরোচক খাবার খাওয়া হয়ে যায়। আর তাই রাতে বাসায় ফিরে হালকা পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই উত্তম। সবজি, চিকেন দিয়ে স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। আবার পাতলা সাদা রুটি সবজি দিয়ে খেতে পারেন। অথবা একবাটি সালাদ টক দই দিয়ে মেখে খেতে পারেন। রাতের বেলায়ও ভারী খাবার খেলে পেট ফোলা, পেট ফাপা বা বদহজম দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, যেহেতু প্রচুর পরিমাণে ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা হচ্ছে, তাই সারাদিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটবেন যাতে কিছুটা ক্যালরি বার্ন করা হয় এবং খাবার ভালোমতো হজম হয়। সারাদিনে ১০/১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে

লেখক : পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা কনসালটেশন সেন্টার, বাড্ডা।

  • সর্বশেষ - হেলথ টিপস