, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

প্রতিবছরই নিতে হবে টিকা, এমন দিন আসছে: ফাইজার প্রধান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  প্রকাশ : 

প্রতিবছরই নিতে হবে টিকা, এমন দিন আসছে: ফাইজার প্রধান

করোনা থেকে স্থায়ী সুরক্ষা পেতে সামনে হয়তো প্রতি বছরই টিকা নিতে হতে পারে মন্তব্য করেছেন মার্কিন টিকা ও ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি ফাইজারের প্রধান নির্বাহী ড. অ্যালবার্ট বোর্লা। বিবিসিকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

ড. অ্যালবার্ট বোর্লা বলেন, ‘কোভিড থেকে উচ্চমাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হবে। নিকট ভবিষ্যতেই হয়তো এমন দিন দেখতে হবে আমাদের।’

ফাইজারের প্রধান নির্বাহী বিবিসিকে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন রূপান্তরিত ধরন অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার আগে।

তিনি এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগেই ব্রিটেন ২০২২ এবং ২০২৩ সালের জন্য অতিরিক্তি ১১ কোটি ৪০ লাখ কোভিড টিকা কেনার চুক্তি করেছে; যার মধ্যে ৫ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনা হবে ফাইজার থেকে, বাকি ৬ কোটি সরবরাহ করবে মডার্না।

ড. বোর্লা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার রূপান্তরিত ধরন বেটা এবং ভাইরাসটির অতি সংক্রামক রূপান্তরিত ধরন ডেল্টা- যা প্রথম ধরা পড়ে ভারতে, সেগুলো মোকাবিলায় টিকা কার্যকর করার পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নিয়েছে ফাইজার।

অবশ্য এই দুই ধরন মোকাবিলায় টিকায় তেমন কোনো বদল ঘটাতে হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ফাইজারের প্রধান নির্বাহী  আরও বলেন, কোম্পানি এখন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর করার কাজ করছে। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে শেষ হবে টিকার এই হালনাগাদ সম্পর্কিত কার্যক্রম।

লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে টিকা

ড. বোর্লা মনে করেন যে মহামারির সময় টিকা লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। এ সম্পর্কে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘এই টিকা না হলে আমাদের সমাজের মূল কাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়ত।’

তিনি আরও জানান, ফাইজার আশা করছে যে এ বছর শেষ হবার আগেই কোম্পানি তাদের এমআরএনএ টিকার তিনশো' কোটি ডোজ সরবরাহ করতে পারবে। আগামী বছর কোম্পানি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে চারশো' কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করার।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘মানুষেকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবার জন্য বিশ্ব জুড়ে একটা প্রতিযোগিতা চলছে, তবে ২০২২ সালে দেশগুলো যত প্রয়োজন তত ডোজ টিকা পাবে।’

মুনাফা নিয়ে অনুতপ্ত নন

বিশ্বে স্বাস্থ্য বিষয়ক যেসব দাতব্য সংস্থা আছে, তারা বলছে যে ফাইজার, বায়োএনটেক এবং মডার্না এই মহামারির সময় যে পরিমাণ অর্থ বানিয়েছে তা অনৈতিক।

চলতি বছর ২০২১ কোভিডের টিকা বিক্রি থেকে ফাইজার আয় করবে ৩৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলার। তাদের শেয়ারের দামও এখন আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

মুনাফা লাভের প্রশ্নে কোনরকম দুঃখ প্রকাশ করেননি ড. বুর্লা। তিনি বলেছেন, ‘মূল কথা হল, লাখো লাখো জীবন রক্ষা পেয়েছে।

‘ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ব অর্থনীতিকে আমরা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছি। আগামী মহামারি রুখতে উদ্ভাবনের কাজে এটা জোরালো অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করবে,’- মন্তব্য করেন তিনি।

মহামারিকে কাজে লাগিয়ে লাভ করার অভিযোগ তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘ধনী দেশগুলোর জন্য এই ব্যয় ‘সস্তার খাবার কেনার খরচের সমান। আর আমরা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে টিকা বিক্রির সময় মুনাফা

তিনি বলেন, ফাইজারের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় মজুত রাখার বিষয়টা অনেক দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, বিশেষ করে সেযব দেশে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তবে আগামী এক মাস বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে কোম্পানি নতুন ফর্মূলার টিকা বাজারে ছাড়বে বলে জানিয়েছেন ড. বোর্লা, যা তিন মাস পর্যন্ত সাধারণ ফ্রিজে মজুত রাখা যাবে। বিশেষ করে আফ্রিকায় সাহারার দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য এটা ‘বিরাট একটা পরিবর্তন’ আনবে বলে আশা করছেন তিনি।

ফাইজার প্যাক্সলোভিড নামে মুখে খাবার একটি অ্যান্টিভাইরাল বড়িও বের করেছে, যার ব্যবহার হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর হার প্রায় ৯০শতাংশ কমায় বলে ট্রায়ালে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিনের মধ্যেই এই ওষুধ অনুমোাদন করবে বলে মনে করা হচ্ছে এবং ব্রিটিশ সরকার আড়াই লাখ রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ এই ট্যাবলেট কেনার জন্য চুক্তি করে ফেলেছে।

ফাইজারের প্রধান বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান পাঁচ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোভিড টিকার ট্রায়াল চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, যেহেতু স্কুলের পরিবেশে কোভিড সংক্রমণ খুব বেশি ছড়াচ্ছে, তাই শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে ভবিষ্যতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই তিনি মনে করেন।

ফাইজার এবং মডার্না উদ্ভাবিত এমআরএনএ টিকার চাহিদা এখন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাকে ছাপিয়ে গেছে।

'সঠিক পদক্ষেপ নিন’

যারা এখনও করোনা টিকা নেননি, তাদের উদ্দেশ্যে জোরালো বার্তা দিয়েছেন ড. আলবার্ট বুর্লা।

তিনি বলেন, ‘যারা এখন ভয় পাচ্ছেন তাদের বলি, মানুষের মধ্যে যে আবেগটা বেশি জোরালো সেটা ভয় নয়, ভালবাসা।’

‘কাজেই আমি সবসময় যে যুক্তি দিই, তা হলো - আবার আরেকটা টিকা নেব কিনা এ বিষয়ে একটা কথা ভেবে দেখুন। এটা শুধু আপনার স্বাস্থ্যের জন্যই জরুরি নয়, আপনার আশপাশে যারা আছে, বিশেষ করে যারা আপনার সবচেয়ে প্রিয়জন, যাদের কাছাকাছি আপনি থাকতে চান, তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও এটা জরুরি।

‘কাজেই ভয় ভেঙে সঠিক পদক্ষেপ নিন।’

  • সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক