ময়মনসিংহ, , ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

চিন্তিত বিচারপ্রার্থীরা ফোন করে বলেন, কোর্ট খোলা আবেদন করেন

চিন্তিত বিচারপ্রার্থীরা ফোন করে বলেন, কোর্ট খোলা আবেদন করেন

করোনাভাইরাসে থমকে গেছে দেশ। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিস্তাররোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ছুটির আওতায় রয়েছে দেশের সব আদালত। করোনা সংক্রমণের লাগাম টানতে ছুটি দফায় দফায় বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে সেটাও বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে বিচারপ্রার্থীদের (মক্কেল)।

দেশের এ পরিস্থিতিতে মক্কেলরা কী ভাবছেন মামলা নিয়ে। এ নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনিবাহী কমিটির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট হান্নান ভূইয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম।

 আইনজীবীদের এই দুঃসময়ে পাশে না দাঁড়ালে ঢাকা আইনজীবী সমিতি

  • দীর্ঘদিন আদালত বন্ধ। আদালতে না এসে এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?

হান্নান ভূইয়া : আমি একজন আইনজীবী। ঢাকা আইনজীবী সমিতি একটা পরিবার। এখানে দল-মত নির্বিশেষে সবাই পরিবারের মতো সুখে-দুঃখে মিলেমিশে থাকি। আজ এই মহামারি করোনার কারণে কোর্টে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা মানে আমার শরীরের একটা অংশের সাথে দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকা।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হওয়ার পর থেকে এ প্রথম এতো লম্বা সময় অনুপস্থিত থাকতে হচ্ছে আদালতে। বাসায় বসে সবার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করছি। সবার খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করছি।

  • এই পরিস্থিতিতে মক্কেলরা মামলা নিয়ে কী ভাবছেন?

হান্নান ভূইয়া : বিভিন্ন সময় টিভিতে কোনো আসামির মুক্তির খবর দেখে অনেক মক্কেলের আত্মীয় ফোন করে বলেন, কোর্ট তো খোলা, জামিনের আবেদন করলেই জামিন দিয়ে দেবে। আপনি জামিন আবেদন করেন। কেউ কেউ আবার চিন্তাও করেন, জামিন আবেদন বাতিল হবে কি-না। আবার কেউ এন আই অ্যাক্টের মামলার সময় নিয়ে চিন্তিত, চেক ডিজঅনারের সময় চলে গেলে কোর্ট মামলা নেবে তো! সব মিলিয়ে মক্কেলরা মামলা নিয়ে খুবই চিন্তিত। তাদের বারবার বোঝাচ্ছি যে আদালত বন্ধ। আপনার মামলার কোনো কার্যক্রমই হবে না। এখন বাসায় বসে সময় কাটান। আদালত খুলুক। তারপর দেখা যাবে।


আদালত পাড়া দীর্ঘদিন বন্ধের কারণে অনেক আইনজীবীরই চলতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে বাসা ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভূমিকা কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

 কত আইনজীবী বাসা ভাড়া দিতে পারেন না, কত আইনজীবী লজ্জায় কাউকে কিছু বলেন না। কিন্তু কোর্টে হেঁটে আসেন 

হান্নান ভূইয়া : গত কয়েক বছরে যে কয়টি কমিটি এসেছে তারা ওকালতনামা, জামিননামা ইত্যাদির দাম বাড়িয়েছে। আইনজীবীদের মাসিক চাঁদার হারও বাড়িয়েছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির কয়েক কোটি টাকা ব্যাংকে আছে। এটা আইনজীবীদের টাকা। আইনজীবীরা মারা গেলে তার ওয়ারিশরা পান। এখন সারাবিশ্বে মহামারি চলছে। পুরো পৃথিবী থমকে গেছে। দেশে দেশে লকডাউন চলছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির কিছু সিনিয়র সদস্যের আর্থিক সমস্যা নেই। বাকিদের সমস্যা রয়েছে। আইনজীবীরা কারও কাছে ছোট হতে পারেন না। ঢাকা আইনজীবী সমিতি আইনজীবীদের এই দুঃসময়ে পাশে না দাঁড়ালে এ সমিতি আর কেন? আর এই টাকা তো কারও পকেট থেকে দিচ্ছে না। আইনজীবীর টাকা আইনজীবীকে দেবে। এতে এতো গড়িমসি কেন, এটা বোধগম্য নয়।

আর পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে এখন আইনজীবীর টাকা আইনজীবীদের দিতে গড়িমসি করলে বা আরও দেরি করলে কোনো আইনজীবী যদি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় এর দায় কে নেবে? সিদ্ধান্ত আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। আইনজীবীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকেন। অনেক জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ। যেভাবে সময় অতিবাহিত করছে ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটি, পরে অনেক আইনজীবী বাসা থেকে বের হয়ে টাকা নিতে আসতে পারবেন না। এলে বিপদেও পড়তে পারেন। তখন এই দায় কে নেবে? তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। বিকাশ বা অন্য কোনো মাধ্যমে আইনজীবীর টাকা আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেয়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটির নৈতিক দায়িত্ব।

আর আমাদের সমাজের এক শ্রেণির ধারণা, আইনজীবী মানে অনেক টাকা-পয়সার মালিক। তাই প্রায় সবাই আইনজীবীদের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন। কিন্তু আইনজীবীরাও মানুষ। এটা মনে হয় বোঝেন না অনেকে। কত আইনজীবী বাসা ভাড়া দিতে পারেন না, কত আইনজীবী লজ্জায় কাউকে কিছু বলেন না। কিন্তু কোর্টে হেঁটে আসেন। কোন বেলায় খান কোন বেলায় খান না, কেউ জানে না। পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পেশা হলো আইন পেশা। পৃথিবীতে এটা একমাত্র পেশা, টাকা দিয়ে অন্যের চিন্তা কিনে নেয়া হয়। আবার সব মামলা থেকে টাকাও পাওয়া যায় না।

  • সর্বশেষ - সাক্ষাতকার