, ১০ মাঘ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

৬১৭ দিন পর দর্শক ফিরল মিরপুরে

  স্পোর্টস ডেস্ক

  প্রকাশ : 

৬১৭ দিন পর দর্শক ফিরল মিরপুরে

‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে! মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে।’- রবি ঠাকুরের লেখা গানটি যেন আজ মিরপুরের আকাশ-বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ৬১৭ দিন পর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম আবার মুখরিত হলো গ্যালারিতে সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকারে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে আজ (শুক্রবার) মাঠে দর্শক ফিরিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই সুযোগ মাটিতে ফেলতে চাননি অনেকেই।

কিশোরগঞ্জ থেকে সাহেব আহমেদ ছুটে এসেছেন সকালেই। একটি টিকিটের জন্য আকুতির শেষ নেই তার। অসদুপায়ে যে টিকিটগুলো পাওয়া যাচ্ছিল মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে, সেগুলো চাহিদার তুলনায় নগণ্য। হাজার ২৫ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে যে বসে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন মোটে ১০ হাজারের মতো দর্শক।

সাংবাদিকের গলায় ম্যাচ কাভারের ‘পাশ’ দেখে অনেকেই মনে করলেন হয়তো ক্রিকেট বোর্ডের লোক। এজন্য টিকিটের আবদার করে বসলেন অনেকেই। অনেকে আবার নাছোড়বান্দা। নরসিংদী থেকে আসা শফিকুল ইসলাম হাত চেপে ধরে মিনতি করলেন, ভেতরে ঢোকানোর ব্যবস্থা করে দিতে। প্রয়োজনে টিকিটের দ্বিগুণ মূল্য সাধলেন তিনি। তবে যারা টিকিট নামক সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন, তাদের উৎসব আর চিৎকারে গোটা স্টেডিয়াম চত্বর ভিন্ন আবহে রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে দর্শক সাক্ষী রেখে সবশেষ খেলেছিল ২০২০ সালের মার্চে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৬১৬ দিন সমর্থকদের ‘পা’ পড়েনি বাংলাদেশের স্টেডিয়ামগুলোতে। এর মাঝে হয়ে গেছে ওয়স্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ঘরোয়া ক্রিকেটে বসেছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ, বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগের মতো আসর। এর সবই ছিল দর্শকশূন্য।

আজকের ম্যাচ দিয়ে সমর্থকদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মিটেছে। তবে অনেকেই টিকিট কেটেও মাঠে ঢুকতে পারেননি বিসিবির বেঁধে দেওয়া নিয়মের কারণে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধী দুই ডোজ টিকার সনদ দেখাতে না পারায় আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে অনেককে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানি সমর্থকরা একেবারে কম নয়। তবে তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশে আছেন দীর্ঘদিন ধরে। দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী তারা। মোহাম্মদ আমের, মোহাম্মদ সারেকরা এসেছেন শোয়েব মালিক, বাবর আজমদের সমর্থন জানাতে। তবে ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তাও ছিল তাদের কণ্ঠে।

ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনার সূত্রে দুই পাকিস্তানি মোহাম্মদ আমীর ও মোহাম্মদ সাদেক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন যথাক্রমে ৪ ও ২ বছর ধরে। দুজনেই আশাবাদী বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান বিশ্বকাপের সাফল্য ধরে রাখবে। বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে ইতোমধ্যে বাংলা ভাষাও প্রায় আয়ত্ত করে ফেলেছেন, বাংলাতেই জানিয়েছেন তাদের অনুভূতি।

মোহাম্মদ সারেক বললেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে, আমি ২ বছর ও আমের ৪ বছর ধরে এখানে আছি। আমরা ঢাকা মেডিক্যালে পড়াশোনা করছি। এই প্রথম বাংলাদেশের মাঠে পাকিস্তানের খেলা দেখতে এলাম। পাকিস্তান বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছে, আমরা আশাবাদী তারা এখানেও সেটা ধরে রাখবে।’

বাংলাদেশে থাকার কারণে ম্যাচে বাংলাদেশ দলের প্রতি কিছুটা সমর্থন কাজ করবে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ আমীর বলেন, ‘সেটি তো অবশ্যই। আসলে এখন তো দুইটাই আমাদের দল বলা যায়। আমরা আসলে খেলাটাকে সমর্থন দিতে এসেছি। ক্রিকেটের জয় হোক দিনশেষে এটাই চাওয়া।’

পাকিস্তানি সমর্থকদের ১২-১৪ জনের একটি দল এসেছেন গাজীপুর থেকে। তারাও এখানকার মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ১২ ম্যাচের ১০টিতে হারা বাংলাদেশের জন্য ছন্দে ফেরার চ্যালেঞ্জটা সহজ নয়। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এটা এখন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পর দলের যে মানসিক অবস্থা, দেশের ক্রিকেটে যে গুমোট আবহাওয়া, সবকিছুর সমাধান কেবল মিলতে পারে মাঠের ক্রিকেটেই। জয়ই এনে দিতে পারে এর উত্তম সমাধান।

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা