, ১ ভাদ্র ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

আড়াইহাজার-মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি অধিগ্রহণের সময় বাড়ছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

আড়াইহাজার-মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি অধিগ্রহণের সময় বাড়ছে

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের সময় ফের বাড়ছে। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল। এরপর দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও বাস্তবায়ন হয়নি প্রকল্পটি। এবার প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনে ৩০ জুন ২০২৩ নাগাদ সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। মূলত ব্যয় সমন্বয়সহ আনুষঙ্গিক কিছু কাজ সম্পন্ন করতেই অতিরিক্ত আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর এ আবেদন।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ
প্রকল্পটি মোট ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদন হয়। দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে আন্তঃখাত সমন্বয় ও প্রস্তাবিত নতুন অঙ্গ সংযোজনের প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে রয়েছে পরামর্শক ব্যয়, মুদ্রণ ও বাঁধাই, যাতায়াত ব্যয়, খাল খনন, সীমানা পিলার ও অফিস সরঞ্জামাদি অন্তর্ভুক্তিসহ বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জুন ২০২৩ পর্যন্ত অর্থাৎ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব।

মেয়াদ ছয় মাস বাড়ায় প্রকল্পটির কয়েকটি রাজস্ব অঙ্গের ব্যয় যেমন পরামর্শক ব্যয় খাতে ৬ কোটি, জরিপ খাতে ১ কোটি ২৩ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাই খাতে ২ লাখ, সম্মানী খাতে এক লাখ, যাতায়াত ব্যয় ৫০ হাজার, আপ্যায়ন ব্যয় এক লাখ, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক ব্যয় ৫০ হাজার মিলিয়ে মোট ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে যানবাহন ভাড়া বাবদ ৪ লাখ, তেল ও লুব্রিকেন্ট বাবদ এক লাখ, ফুয়েল/গ্যাস বাবদ ২ লাখ, স্ট্যাম্প ও সিল বাবদ ৫০ হাজার মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় কমবে। এসব বিষয় সমন্বয় করতেই আরও ছয় মাস সময় লাগবে।

এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে বেজা। বেজার প্রস্তাবনায় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ৭২ শতাংশ। শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য তৃতীয় দফায় আরও ছয় মাস সময় আবেদন করা হয়েছে। এ সময়ে মূলত জমির মূল্য পরিশোধ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় সমন্বয় করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) সালেহ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ। আমরা সময়মতো ফান্ড পাইনি। সরকারি ফান্ড পেতে দেরি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়তি সময় লাগছে। এজন্য আরও ছয় মাস সময় চেয়েছি। ভূমি অধিগ্রহণের সীমানা পিলার ও বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এছাড়া অধিগ্রহণ করা জমির কিছু খাল ভরাট হয়েছে, এগুলো ঠিক করতে হবে। এজন্য একটা পিক টাইম দরকার। কিছু ব্যয় সমন্বয় করতেও আমাদের বাড়তি সময় লাগবে।

jagonews24

প্রকল্পের মূল অংশের খাল খনন খাতে আট কোটি, সীমানা পিলারে পাঁচ কোটি, অফিস সরঞ্জামাদির জন্য চার লাখ, ভূমি অধিগ্রহণ/ক্রয় খাতে ২২৫ কোটি ৯ লাখ ৩১ হাজার মিলিয়ে মোট ২৩৮ কোটি ১৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ল্যান্ড স্ক্যাপিং খাতে আট কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি খাতে ২৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার মিলিয়ে মোট ২৪৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আন্তঃখাত সমন্বয় ও নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তিসহ বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত (আরও ৬ মাস) বাড়ানোয় প্রথম সংশোধিত মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা (জিওবি) অপরিবর্তিত রয়েছে।

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য
জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য আড়াইহাজার অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির শিল্প স্থাপনের সুবিধা সম্প্রসারণ করা, জাপানিজ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আকর্ষণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।

jagonews24

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম
আড়াইহাজারে এক হাজার এক দশমিক ৮১ একর এবং মিরসরাইয়ে ৫০৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও কেনা হবে। মিরসরাই এলাকায় ৪৩৫ একর ভূমি উন্নয়ন, ল্যাপটপ ও অফিস সরঞ্জামাদি কেনা, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ (ওয়াচ টাওয়ারসহ) ও পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য