ময়মনসিংহ, , ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

ইফতার ও সাহরিতে বিশ্বনবির অনুসরণে যা খাবেন রোজাদার

  ধর্ম ডেস্ক

  প্রকাশ : 

ইফতার ও সাহরিতে বিশ্বনবির অনুসরণে যা খাবেন রোজাদার

যথাসময়ে ইফতার ও রাতের শেষ সময়ে সাহরি গ্রহণে রয়েছে অনেক ফজিলত কল্যাণ এবং উপকারিতা। আর ইফতার ও সাহরিতে খেজুর পানি গ্রহণেও রয়েছে অনেক ফজিলত ও উপকারিতা। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহরি এবং ইফতারে খেজুর খেতেন।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণে রমজানের প্রতিটি কাজই বরকতময়। খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার এবং সাহরির ব্যতিক্রম নয়।


এ মাসে মুমিন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো ও শেখানো পদ্ধতিতে আত্ম সংযম পালন করবে, কুরআন তেলাওয়াত করবে, তাকওয়া অর্জন করবে, ইবাদত-বন্দেগি করবে, সাহরি খাবে এবং ইফতার করবে। এ সবই রোজাদার মুমিন বান্দার একান্ত করণীয় কাজ।


এতে রয়েছে তাকওয়ার প্রশিক্ষণ। সাহরি গ্রহণে রয়েছে বরকত ও কল্যাণ। ফেরেশতারা সাহরি গ্রহণকারীর জন্য মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকেন।


আবার ইফতার রোজাদারের জন্য আনন্দের। রোজাদারের আনন্দের ফলে এ সময়ের সব আবেদন আল্লাহ কবুল করে থাকেন। সাহরি প্রসঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন কতিপয় সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা। আর তাহলো-


হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, প্রিয়নবি বলেছেন, ‘মুমিনের শ্রেষ্ঠ সাহরি হলো খেজুর।’


সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা অর্থাৎ সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করা। ইফতারে দেরি না করে সময় মতো ইফতারে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। ইফতারি প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-


প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা তাতে বরকত (কল্যাণ) রয়েছে। আর যদি খেজুর না পাওয়া যায় তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা পবিত্রকারী। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মিশকাত)


তাইতো ইফতারের সময় হলে প্রথমে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করা অতি উত্তম। এর রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। রোজা খুলতে ইফতারের সময় প্রথমে খেজুর এবং পানি দেহে সুক্রোজ তৈরি করে থাকে। ফলে মুহূর্তেই তৃষ্ণা এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।


ইফতারের পর রোজাদার ব্যক্তি মাগরিবের নামাজ আদায় করে। এ সময়ে রোজাদারের পাকস্থলী সারাদিন বসে থাকার পর একটু কাজ পেয়ে সক্রিয় বা কর্মক্ষম হয়ে নেয়। মাগরিব পরবর্তী সময়ে রোজাদার ব্যক্তি রাতের খাবার গ্রহণে পর্যাপ্ত মাছ-মাংস অর্থাৎ আমিষ জাতীয় খাদ্য খেলেও কোনো অসুবিধা নেই।


এতে রোজাদারের স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে, তেমনি রোজার আত্মিক-আধ্যাত্মিক প্রাপ্তিও অর্জিত হয়। হাদিসে এসেছে, ‘অতিরিক্ত পানাহার থেকে বিরত থাক। তা না হলে তোমার অন্তরাত্মার মৃত্যু ঘটবে।’ (মুসলিম)


প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী সাহরি ও ইফতারে স্বাস্থ্যসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত খাবার গ্রহণ করলে পবিত্র রমজান মাস জুড়ে রোজাদার অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন সুস্থ্য ঝরঝরে ও ফুরফুরে থাকবে।


বিশেষ করে


ইফতারের সময়টি যেহেতু মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মহামূল্যবান। তাই এ সময়ে বিশ্বনবির ইফতারের অনুসরণ ও অনুকরণে ইফতার করা মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভ্যাস ছিল- শুধু খেজুর আর পানি খেয়ে সাহরি ও ইফতার করা এবং অতঃপর যথাক্রমে ফজর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করা।


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবির শেখানো পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সাহরি ও ইফতার গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর