, ২১ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

অনিচ্ছায় বমি হলে রোজা ভেঙে যাবে কি?

  ধর্ম ডেস্ক

  প্রকাশ : 

অনিচ্ছায় বমি হলে রোজা ভেঙে যাবে কি?

কোনো কারণে রোজা অবস্থায় অনিচ্ছায় বমি হলে কি রোজা ভেঙে যাবে? এছাড়াও অনিচ্ছায় বমি হওয়ার পর শারিরীক অসুস্থতা দেখা দিলে অর্থাৎ শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে রোজা রাখা সম্ভব হচ্ছে না; এমন অবস্থায় রোজা ভেঙে ফেললে— সেই রোজার জন্য শুধু কাজা আদায় করলে হবে? নাকি কাফফারাও দিতে হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর হলো- অনিচ্ছায় মুখভরে বমি হলে রোজা ভাঙবে না। তবে ইচ্ছেকৃত মুখভরে বমি করলে— রোজা ভেঙে যাবে; আর মুখভরে না হলে ভাঙবে না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে— তাকে সে রোজা কাজা করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করবে, সে যেন রোজার কাজা করে। (তিরমিজি, হাদিস : ৭২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/১৮০; আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৪৭)

ইচ্ছেকৃত বমি করা হলো- মুখে আঙ্গুল দিয়ে কোনো পদ্ধতিতে ইচ্ছেকৃত মুখভরে বমি করা; এতে রোজা ভেঙে যাবে। অনিচ্ছায় হলে বা ইচ্ছেকৃত মুখভরে না হলে রোজা ভাঙবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০৪; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ৪২১)

দ্বিতীয় কথা হলো- নয়টি কারণে রোজা না রাখার অুনমোদন রয়েছে। সেগুলো হলো- গর্ভ, দুগ্ধপান, জোর-জবরদস্তি, সফর, অসুস্থতা, জিহাদ, অনাহার, পিপাসা ও বার্ধক্য। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ৪২১)

যদি অনিচ্ছায় বমি হওয়ার পর কেউ রোজা রাখতে অপারগ হয়ে যায়, তাহলে সে রোজা ভঙ্গ করতে পারবে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাজা ওয়াজিব হবে, কাফফারা ওয়াজিব হবে না। কাফফারা শুধুমাত্র ওইসব স্থানেই ওয়াজিব হয়ে থাকে, যে সমস্ত স্থানে শরয়ি ওজর ব্যতিত রোজাকে ভঙ্গ করা হয়ে থাকে।

  • সর্বশেষ - অন্যান্য