, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ অনলাইন সংস্করণ

তথ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে বললেন গয়েশ্বর

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

তথ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে বললেন গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পঞ্চগড়ে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষে নিহত বিএনপির নেতা আরেফিনের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তথ্যমন্ত্রীকে মিথ্যাচারিতা পরিহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। গত ২৪ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ে গণমিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি নেতা আরেফিনের মৃত্যু নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বিষয়টি ‘গুলিতে নয়, হৃদরোগে মৃত্যু’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। 

এ মন্তব্যকে নিন্দা জানিয়ে বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বোদা উপজেলার পাথরাজে নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ আরেফিনের পরিবারে সমবেদনা জানান তিনি। সেখানে স্থানীয় বিএনপির উদ্যােগে প্রতিবাদ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সেদিন বিএনপির কর্মসূচিতে আরেফিনকে লাঠিচার্জ করে সাপ পেটানোর মতো পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তথ্যমন্ত্রী সেটা জাতির সামনে ‘হৃদরোগে’ মারা গেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তথ্যমন্ত্রী মূলত অমানবিক। তার মুখে মনুষ্যত্ববোধের কোনো শব্দ উচ্চারণ হয় না। একটি জীবন কেড়ে নেওয়ার পর এমন বাণী এক নিষ্ঠুরতা। মূলত এ হত্যার দায় বহন করার সৎ সাহস তাদের নেই। তাই মিথ্যাচারের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী। 

তিনি আরও বলেন, আরেফিন বিজয়ের মাসেই জীবন দিলেন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে দেশ স্বাধীন করেছি, সেই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুম, খুন এবং একের পর এক জীবন বলি হচ্ছে। বিশ্বাস করি, জনগণের সামনে কোনো শক্তি অতীতে টিকেনি, সফল হয়নি। এই সরকারও যাবে, যেতে হবে। মনে করি নির্যাতনের মাত্রা যত বাড়বে, সরকারের যাবার পথও ততো স্বল্প হবে।

প্রতিবাদ সভা ও সমবেদনা জানানোর সময় রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হাবিব দুলু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, নিহত বিএনপি নেতার স্ত্রী নাসরিন আক্তার, ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহিসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় দলের পক্ষ থেকে শহীদ আরেফিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তারের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বেগম খালেদা জিয়াসহ গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে রাবার বুলেট, টিয়ারশেল এবং কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটের কারণে বোদার ময়দানদীঘির ইউনিয়ন বিএনরি যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রশিদ আরেফিন (৪৫) মারা যান বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ৮১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তবে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, রশিদ আরেফিন নামে যিনি মারা গেছেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাছাড়া তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছিল। তিনি পুলিশের গুলিতে নয়, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। কেননা, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরে তথ্যমন্ত্রী ড.হাসান মাহমুদ পঞ্চগড়ে বিএনপির নেতা ‘হৃদরোগে’ মারা যাওয়ার মন্তব্য করেছেন।

  • সর্বশেষ - মিডিয়া