ময়মনসিংহ, , ১০ আশ্বিন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

রাস্তায় পড়ে থাকা বিআরটিসি বাসগুলোতে চলছে চুরির মহোৎসব

রাস্তায় পড়ে থাকা বিআরটিসি বাসগুলোতে চলছে চুরির মহোৎসব

ময়মনসিংহে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পাঁচমাস ধরে বিআরটিসির প্রায় অর্ধশত বাস অরক্ষিত অবস্থায় মহাসড়কের পাশে পড়ে রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে বাসের বিভিন্ন ক্ষতির পাশাপাশি চুরি হচ্ছে যন্ত্রাংশ।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করতে ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা রুটে ১৬টি বাস চালুর মধ্য দিয়ে বিআরটিসি বাস সেবা চালু হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রুটে চালু করা হয় বিআরটিসির মোট ৪৭টি বাস। অন্যান্য সময় বাসগুলো জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলাচল করলেও করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে যাত্রীসেবা।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের (মাসকান্দা-দিকারকান্দা) পাশে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বিআরটিসির বাসগুলো। বাসগুলোর পাশ দিয়ে বড় যানবাহনসহ সিএনজিগুলো দ্রুতগতিতে চলছে। রাস্তার পাশে এভাবে বাস রাখায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয় আলমগীর হোসেন, মশিউর রহমান ও হযরত আলী জানান, যাত্রীসেবা সহজ করার জন্য বাসগুলো ময়মনসিংহে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত বাসগুলো বন্ধ রাখায় আমরা সেই সেবা পাচ্ছি না। এছাড়াও বাসগুলো রাস্তার পাশে পড়ে আছে। এর ফলে বাসগুলোর ক্ষতির পাশাপাশি দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও বাসের অনেক যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। এগুলো দেখাশোনার জন্য লোক থাকলেও কেউ খোঁজ রাখে বলে মনে হয় না। যদি সঠিকভাবে তদারকি করত তাহলে বাসগুলোর মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হতো না।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিসি বাসের দুই চালক বলেন, কয়েকদিন আগে চাকা চুরি করার সময় দুই চোরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে ১৪টি বাস থেকে ২৬টি চাকা ও ২৪টি ব্যাটারি ছাড়াও চুরি হয়েছে অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ।


ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সুমি সরকার বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়ায় শহরে চুরি ছিনতাই বেড়েছে। তাই এসব বাস রক্ষায় কর্তৃপক্ষের নজরদারির পাশাপাশি চুরি ছিনতাই রোধে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।


বিআরটিসির বাস রাখার কোনো ডিপো না থাকায় যন্ত্রাংশ চুরিসহ রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে বাসগুলোর ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে বিআরটিসির ময়মনসিংহের ম্যানেজার (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরীর মাসকান্দায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দু’পাশে রাখা হয় বিআরটিসির বাসগুলো। সেখান থেকে কিছু যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। চাকা চুরির সময় তারা দুই চোরকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


বিআরটিসি বাসের ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, বাসগুলো সচল রাখতে তারা ২-৩ দিন পরপর কিছুক্ষণের জন্য ইঞ্জিন চালু রাখেন, যাতে ব্যাটারির কোনো ক্ষতি না হয়। নগরীর শম্ভুগঞ্জে ডিপো তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।


ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ কার্যালয়ের তথ্যমতে বিআরটিসির ৪৭টি বাস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্টাফ রয়েছে শতাধিক। তাদের পেছনে সরকারের মাসিক ব্যয় ১৩ লাখ টাকা।


এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের চোর ধরা হচ্ছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তারাও ধরা পড়বে।

  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল