ময়মনসিংহ, , ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

শুধু ধানকাটা নয়, শুকিয়েও দিলেন গৌরীপুরের শহীদ চেয়ারম্যান

শুধু ধানকাটা নয়, শুকিয়েও দিলেন গৌরীপুরের শহীদ চেয়ারম্যান

কাঁচা ধানকাটা, ফটোসেশন ধানকাটা নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে। সেই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শুধু ধানকাটা নয়, কৃষাণীদের সঙ্গে ধান শুকানো ও খড় শুকিয়ে দিচ্ছেন অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর (ভিপি শহীদ চেয়ারম্যান)।


বুধবার একদিনে কাটা হয়েছে এ ইউনিয়নে খান্দার গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবদুল মজিদের ৩০ শতাংশ, হেলাল উদ্দিনের ৫০ শতাংশ, মাসুম মিয়ার ৩০ শতাংশ ও বর্গাচাষী আবদুল হাইয়ের ২৫ শতাংশ জমির ধান। এ ছাড়া মঙ্গলবার একই গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ৪৫ শতাংশ, আজিজুল হকের ৪০ শতাংশ, আমিরুল ইসলামের ৬০ শতাংশ, সোমবার আবদুল ওয়াহাবের ৪২ শতাংশ, নজরুল ইসলামের ৫৫ শতাংশ, বিধবা বুলবুলী আক্তারের ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।


গত টানা ৬ দিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও চেয়ারম্যানের পুত্রসহ পরিবারের সদস্যরাও। শহীদ চেয়ারম্যান অচিন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রজীবনে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে তিনি ভিপি নির্বাচিত হন।


তিনি জানান, শুধু আমরা নই, গ্রামে কাজ নেই এমন ২৭ জন ধান কাটা শ্রমিকও সঙ্গে নিয়েছি। যাদের প্রতিদিনের প্রত্যেকের মজুরি ৫৫০ টাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করছি। এ কর্মসূচিতে অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, ছাত্রলীগের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন।


এ কর্মসূচিতে অংশ নেন অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন, সুমন মিয়া, রাকিব আহাম্মেদ, আব্দুর রউফ, আবদুল আউয়াল, চেয়ারম্যানের পুত্র ইবনুল আলবী ইউশা, ভাতিজা ফারহান মিয়া, ভাগিনা হৃদয় হাসান শিপন, ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন খান, জয়নাল আবেদীন, সোহেল মিয়া।


কৃষক আবদুল মজিদ বলেন, আমরা অল্প শ্রমিক নিয়ে কাটলে অনেক সময় লাগত। চেয়ারম্যানের লোকজন মাত্র আধা ঘণ্টায় কেটে ধান ও খড়ও শুকিয়ে দিয়েছে।


বর্গাচাষী আবদুল হাই জানান, আমার ৩ মেয়ে। একা মানুষ। চেয়ারম্যান এসে ধান কেটে বাড়িতে দিয়ে যাওয়ায় শঙ্কামুক্ত হয়েছি।

  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল